দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি মাত্র ৬ ঘণ্টায়, বুলেট ট্রেন প্রকল্পে বাংলার জন্যে বড় ঘোষণা রেলমন্ত্রীর!

নবান্নে বৈঠকের পর রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের বড় ঘোষণা। বুলেট ট্রেন প্রকল্পে দিল্লি-শিলিগুড়ি ৬ ঘণ্টার যাত্রার পরিকল্পনা, সঙ্গে ৬০ নতুন ট্রেনের আশ্বাস।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বুলেট ট্রেন পরিষেবা নিয়ে বড় বার্তা দিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকের পর তিনি জানান, দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত উচ্চগতির রেলপথ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে মাত্র ৬ ঘণ্টায় দুই শহরের মধ্যে যাতায়াত সম্ভব হবে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে পশ্চিমবঙ্গে ৬০টি নতুন ট্রেন চালুর আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন রেলমন্ত্রী। বৈঠকে রাজ্য সরকারের একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক এবং প্রশাসনিক কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলার রেল অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন অশ্বিনী বৈষ্ণব।

রেলমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বুলেট ট্রেন করিডরটি দিল্লি থেকে শুরু হয়ে লখনউ, বেনারস এবং পাটনা হয়ে শিলিগুড়িতে পৌঁছবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দেশের রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিন রেলমন্ত্রী অতীতের রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও সরব হন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে রেলের বিভিন্ন প্রকল্পে প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া হয়নি, যার ফলে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ আটকে ছিল। তিনি দাবি করেন, বহু প্রকল্প আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল এবং তার জেরে কাজের গতি ব্যাহত হয়েছে।

কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণ প্রসঙ্গেও পরিসংখ্যান তুলে ধরেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। তাঁর দাবি, ১৯৭২ সালে কলকাতা মেট্রো চালু হওয়ার পর পরবর্তী ৪২ বছরে মাত্র ২৮ কিলোমিটার মেট্রোপথ নির্মিত হয়েছিল। অন্যদিকে গত ১২ বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার নতুন মেট্রো রুট চালু বা সম্প্রসারিত হয়েছে।

রেলমন্ত্রী আরও জানান, বন্দে ভারত স্লিপার এবং অমৃত ভারত ট্রেনের মতো আধুনিক পরিষেবা পশ্চিমবঙ্গেই প্রথম চালু হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে ৯টি বন্দে ভারত, ১টি বন্দে ভারত স্লিপার এবং ১৩টি অমৃত ভারত ট্রেন চলাচল করছে।

স্টেশন আধুনিকীকরণ নিয়েও বড় পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। পশ্চিমবঙ্গের ১০২টি রেলস্টেশনের পুনর্নির্মাণ ও আধুনিকীকরণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি স্টেশনের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে দাবি রেলমন্ত্রীর।

অন্যদিকে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগামী দিনে রাজ্যের প্রতিটি জেলা রেল মানচিত্রের সঙ্গে আরও শক্তভাবে যুক্ত হবে। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর