নজরবন্দি ব্যুরোঃ ওয়েটিং লিস্টে থাকা চাকরি প্রার্থীর র্যাঙ্ক জাম্প করে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিচারপতি। কার সুপারিশে অযোগ্যরা চাকরি পেয়েছেন? কে কে তাঁদের সুপারিশ দিয়েছিল? শুক্রবার নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি মামলায় ৯ জনের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সেই মামলা চলাকালীন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর নাম উল্লেখ করেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। এমনকি মধ্যশিক্ষা পর্ষদ কালপ্রিট, বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
শুক্রবার প্রধান শিক্ষক মামলায় মামলাকারী পূর্বিতা রায়ের অভিযোগ ছিল মেধাতালিকায় নাম না থাকা স্বত্বেও ৯ জনকে বেআইনিভাবে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এমনকি বয়সের ক্ষেত্রেও কারচুপি হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন মামলাকারী। মামলাকারীর আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, যে ১৮৩ জন অযোগ্য শিক্ষকদের তালিকা ও ওএমআর শিট প্রকাশ করতে বলা হয়েছিল, সেখান থেকেই এই তথ্য পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে ৮১ জন কর্মরত শিক্ষক বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ৯ জন এদিন আদালতের দ্বারস্থ হন। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য, মামলা চলাকালীন হয়তো জানা যাবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ আসল কালপ্রিট। যদি পর্ষদ কিছু না করতে পারে সেক্ষেত্রে শিক্ষামন্ত্রীকে তলব করা হতে পারে।
ওই ৯ জনের নিয়োগ নিয়ে সিবিআইয়ের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। আগামী বুধবার স্কুল সার্ভিস কমিশন, মামলাকারীর আইনজীবী এবং আবেদনকারী মিলে বৈঠক সারবেন। একইসঙ্গে আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, যে ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা যদি অন্তর্ভুক্ত হতে চান, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জানাতে হবে। ইমেইলের মাধ্যমে বাবেদন জানাতে পারবেন তাঁরা।
মধ্যশিক্ষা পর্ষদ কালপ্রিট, শিক্ষামন্ত্রীকে তলব, কেন বললেন বিচারপতি?

এর আগে এই ১৮৩ জনের নিয়োগ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ১৮৩ জনের নাম প্রকাশের পরেই সিবিআইয়ের উদ্দেশ্যে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য ছিল ভয় পাবেন না। ধেড়ে ইঁদুর ধরা পড়বে। এখন সেই তালিকা থেকেই ৯ জনের সুপারিশের তালিকা চাইতেই সেই প্রশ্ন ফের মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে।



