উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। ইডির আধিকারিক, সিআরপিএফ, সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখের অনুগামী ও এলাকাবাসীরা। পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয় ইডির তরফে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে সরব হয়েছে বিরোধীরা। এই ঘটনায় এবার বৈঠক ডাকলেন রাজ্যের নয়া মুখ্যসচিব বিপি গোপালিকা। শনিবার দুপুরেই সব জেলার জেলাশাসকদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন তিনি।

আরও পড়ুন: মানুষের ভরসায় জিতব ডায়মণ্ড হারবারে, নতুন বছরে ‘তৃণমূল’ ইস্যুতে বিস্ফোরক নওশাদ
নবান্ন সূত্রে খবর, শনিবার দুপুরে সব জেলার জেলাশাসকদের বৈঠকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব। আজ দুপুর তিনটে থেকে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন তিনি। সন্দেশখালির ঘটনায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাকে কেন্দ্র করেই এই জরুরী বৈঠক বলে জানা যাচ্ছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির তরফে প্রেস বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, প্রায় ১০০০ জন উত্তেজিত জনতা তাদের অফিসারদের ঘিরে ধরেছিলেন। দেখে মনে হয়েছিল, মেরে ফেলার জন্যই তেড়ে আসছে। গতকাল কয়েকজন ইডি আধিকারিকের মোবাইল, ল্যাপটপ খোয়া গিয়েছে বলেও অভিযোগ।

সন্দেশখালির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়েছে বিভিন্ন মহল। শাসক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে প্রতিবাদে নেমেছে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এনআইএ তদন্তের দাবি করেছেন। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের সাংবিধানিক পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে।’ এদিকে তৃণমূলের পাল্টা দাবি, ইডির ষড়যন্ত্রের কারণেই সন্দেশখালির মত ঘটনা ঘটেছে।
সন্দেশখালির ঘটনায় উদ্বিগ্ন নবান্ন, তড়িঘড়ি বৈঠক ডাকলেন নয়া মুখ্যসচিব

উল্লেখ্য, রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে শুক্রবার সন্দেশখালিতে তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখের বাড়িতে পৌঁছে যায় ইডি। তাঁর বাড়িতে ডাকাডাকি হলেও কারও সাড়া মেলেনি। এরপরই উত্তেজিত এলাকাবাসী ও তৃণমূল নেতার অনুগামীরা ইডির উপর চড়াও হয়। গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটে যায়।



