বিজেপিতে নাখুশ বনি, বান্ধবীকে সমর্থন করে দলবিরোধী মন্তব্যে ছড়ালেন জল্পনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিজেপিতে নাখুশ বনি, বান্ধবীকে সমর্থন করে দলবিরোধী মন্তব্যে ছড়ালেন জল্পনা। বান্ধবী কৌশানী মুখোপাধ্যায় তৃণমূলের কৃষ্ণনগর কেন্দ্রের তারকা প্রার্থী। তাঁর মা ও তৃণমূলের সদস্য। এহেন রূপোলী পর্দার তারকা বনি সেনগুপ্ত পরিবারের স্রোতের বিপরীতে হেঁটে কিছুদিন আগেই যোগ দেন বিজেপিতে। তখন থেকেই কানাঘুষো শোনা জায় মিয়া-বিবি দুজনে দুই দলে গিয়ে আসলে সেফ খেললেন। যাতে ভোট পরবর্তী সময়ে দুজনের জন্যই খোলা থাকে অন্য দলের দরজা। কৌশানী প্রার্থী হলেও বনি রাজি হননি প্রার্থী হতে। বরং জানিয়েছিলেন নিজেকে দলের প্রচারের কাজে লাগাতে চান।

আরও পড়ুনঃমমতার জেদে আনুপ্রানিত জয়া, প্রচার শুরু করলেন প্রার্থী অরূপ বিশ্বাসের হয়ে।

তবে বান্ধবী কৌশানীর ভোট প্রচারে বেরিয়ে বেলাগাম মন্তব্যই হোক বা দিলীপ ঘোষের টলিপাড়ার শিল্পীদের ‘রগড়ে’ দেওয়ার দাওয়াই হোক সবক্ষেত্রেই বনি দুষেছেন নিজের দলকেই। আর তারপর থেকেই জল্পনা তবে কি দলে যোগদানের মাত্র কিছুদিনের মধ্যেই দলত্যাগের পথে বনি। বান্ধবীর হাত ধরে ফের ফিরবেন তৃণমূলে? তাঁর মন্তব্যে সেই জল্পনা আরও উস্কে দিয়েছে। প্রসঙ্গত কিছুদিন আগে বনির বান্ধবী তথা তৃণমূলের প্রার্থী কৌশানীর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে প্রচারে বেড়িয়েছিলেন কৌশানী। সেখানেই তাঁকে এক জায়গায় বলতে শোনা গিয়েছিল, “বাড়িতে কিন্তু সকলেরই মা-বোন আছে। ভোটটা বুঝে দিস।”

সেই মন্তব্য নিয়ে জলঘোলা হয়েছিল। এখন বনি এই ঘটনায় সরাসরি কাঠগড়ায় তুলেছেন বিজেপিকে। তাঁর দেওয়া সাক্ষাত্‍কারে বনি বলেছেন, “খুব খারাপ লাগছে। যা হয়েছে, একেবারেই ঠিক হয়নি। আমি বলেছি, পুরো ভিডিয়ো না দেখিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে কিছু অংশ কেটে নিয়ে ভাইরাল করা পরিণতমনস্কতা নয়। এটা বিজেপি-কে মানায় না। পাশাপাশি এটাও কৌশানীকে বলেছি, তোমার বলার ভঙ্গি, শরীরী ভাষা ঠিক ছিল না। বোঝাই, কিছু বিষয় আছে সেটা নিয়ে মুখ না খোলাই ভাল। আসলে, কথার পিঠে কথায় অনেক অপ্রিয় প্রসঙ্গ মুখ ফসকে বেরিয়ে যায়। ওরও সেটাই হয়েছে। তার জন্য এ ভাবে টার্গেট করাটাও ঠিক হয়নি।” কৌশানীকাণ্ডে বিজেপিকে নিয়ে বনির এহেন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। আবার সেই ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে খোদ দিলীপ ঘোষকে নিয়ে বনি মুখ খোলায়। দিলীপের টলি শিল্পীদের ‘রগড়ে’ দেওয়া মন্তব্য প্রসঙ্গে বনি তাঁর সাক্ষাত্‍কারে জানিয়েছেন, “আমি বুঝতেই পারলাম না, কেন এমন মন্তব্য করলেন রাজ্য সভাপতি। খুব খারাপ লেগেছে। ওঁর মুখ থেকে এ ধরনের কথা আশা করিনি। দলের সবাই যথেষ্ট সম্মান করছিলেন। হঠাত্‍ এ রকম একটা মন্তব্য শিল্পীদের নিয়ে! একেবারেই ঠিক নয়। যিনি যে পেশাতেই থাকুন, দিনের শেষে তিনি মানুষ। দিলীপ ঘোষ নিজেই বলেছেন, সবাই দেশের নাগরিক। এর পর এই কথা আমি অন্তত মেনে নিতে পারছি না।”

তবে কি বনির কাছে পদ্ম এখন শুধুই কাঁটা? দল ছাড়ার কথা তিনি নাকচ করে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে প্রচারে দেখতে না পাওয়া নিয়ে মুখ খুলে তিনি বলেন “১০ বছর ধরে আমার মা পিয়া সেনগুপ্ত তৃণমূল করছেন। এ বছর তাঁকে টিকিট দেওয়া হবে বলেও দেওয়া হল না। খারাপ লেগেছে। আমায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠানো হত প্রচারে। মুখ বুজে চলে যেতাম। তার পরেও দেখছি, দলে যেন জায়গা নেই! কোনও কথা থাকে না। বিপদে সাহায্য চেয়েও পাইনি। সুপ্রিমোর সঙ্গে কথা বলতে হত তাঁর অধস্তনদের মাধ্যমে। একটা সময়ের পরে আত্মসম্মানে বাধছিল। প্রতি পদে যেন অপমানিত হচ্ছিলাম। সেখানে বিজেপি-র সদস্য, নেতা-মন্ত্রীরা যথেষ্ট বিনয়ী, আন্তরিক। তাই ভেবেচিন্তে সরে গেলাম। ওঁরা সম্মান দিচ্ছেন আমায়। গুরুত্ব দিচ্ছেন। দিলীপ ঘোষ, সব্যসাচী দত্ত, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে, ওঁদের অনুরোধে একদম শেষ মুহূর্তে বিজেপি-তে যোগ দিলাম। দল টিকিট দিতে চেয়েছিল। আমি রাজি হইনি। হাতে খুব অল্প সময়। যে অঞ্চলেই দিক, সেখানে নিজের পরিচিতি তৈরি করে জেতাটা চাপ ছিল। একটা টিকিট পাওয়ার জন্য দলে ঢুকেই এত বড় ঝুঁকি নিতে চাইনি। তার থেকে এই নির্বাচনে প্রচারের দায়িত্ব সামলানোই সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে হল। আর আমি কিন্তু প্রচারে যাচ্ছি। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যাচ্ছি না হয়তো। কিন্তু ওঁর হয়েই প্রচারে গিয়েছি। ২৮ থেকে ৩০ মার্চ নন্দীগ্রামে ছিলাম। পর পর যাব ডোমজুড়, সিঙ্গুর, আদিসপ্তগ্রাম, চুঁচুড়া।”

বিজেপিতে নাখুশ বনি, বান্ধবীকে সমর্থন করে দলবিরোধী মন্তব্যে ছড়ালেন জল্পনা। এখন দেখার ভোটের ফলের পর এই সমীকরণ কোনদিকে মোড় নেয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন