শপথের পরই ‘সংস্কার’ প্রশ্নে নতুন সমীকরণ, জামাত–এনসিপিকে বড় গুগলি প্রধানমন্ত্রী তারেকের

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ফলাফলের পরও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিল না বিএনপি; জামাত–এনসিপি জোটের সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক টানাপোড়েন

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিপুল জয়ের পর সরকার গঠন করেছে বিএনপি। কিন্তু শপথের পরই সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে নতুন রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হল বাংলাদেশে। প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman-এর নেতৃত্বাধীন বিএনপি সাংসদরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় জামাত–এনসিপি জোটের সঙ্গে দূরত্বের ইঙ্গিত মিলছে।

সাম্প্রতিক নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পাশাপাশি দেশে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ ভোট সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়। সেই অনুযায়ী নির্বাচিত সাংসদদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু বিএনপি সাংসদরা সেই পথে হাঁটেননি। ফলে সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এর আগে জামাত ও এনসিপি জানিয়েছিল, সংস্কার না হলে তারা আন্দোলনে নামবে। কিন্তু আপাতত সেই হুঁশিয়ারিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বিএনপি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে ‘জুলাই সনদ’ আনা হয়েছিল। শেষ দিন সেই সনদে শর্তসাপেক্ষে সই করেছিল এনসিপি। তবে বিএনপি স্পষ্ট করেছে, ওই প্রস্তাবিত সংস্কারের পথে তারা হুবহু হাঁটবে না।

প্রস্তাবিত সংস্কারে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানো, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো এবং কোনও ব্যক্তি দু’বারের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না—এই ধরনের কয়েকটি বড় পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছিল। বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপি এই শর্তগুলির সবকটি মানবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

এদিকে বিএনপি সাংসদরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় জামাত–এনসিপি জোটের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। এনসিপি মুখপাত্র Asif Mahmud Sajib Bhuiyan সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “গণভোটের জনরায়কে প্রথম দিনেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শুরু হলো নতুন সংসদের যাত্রা।”

অন্যদিকে বিএনপি সাংসদ Salahuddin Ahmed জানিয়েছেন, দল সংবিধান মেনেই চলবে। তাঁর বক্তব্য, “আমরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। জাতীয় সংসদে সাংবিধানিকভাবে সিদ্ধান্ত হলে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

নতুন সরকার গঠনের পরই এই মতপার্থক্য ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন