বিগত বেশ কয়েকদিন ধরে কার্যত উতপ্ত সন্দেশখালি। শেখ শাহজাহান ও তার দুই অনুগামীর বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই ঘটনাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়ে অশান্তি। সেই আবহে এখনও থম্থমে এলাকা। বেশ কিছু এলাকায় জারি ১৪৪ ধারা। বন্ধ ইন্টারনেট। কিছুদিন আগে সেখানে পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন রাজ্য মহিলা কমিশন ও রাজ্যপাল (Governor)। এখন পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দল পৌঁছতে পারেনি সন্দেশখালি। তার মাঝে শুক্রবার সন্দেশখালি যাচ্ছে বিজেপির প্রতিনিধি দল।

আরও পড়ুন : ভোটের আগে সমস্যায় দল, সমাধানে এবার আসরে অভিষেক, সাংসদ-বিধায়কদের সাথে বৈঠকের প্ল্যান!
ছয় সদস্যের দল গঠন করেছেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা (JP Nadda)। পাশাপাশি সন্দেশখালির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সেখানে যেতে পারেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীও। সন্দেশখালিতে পুলিশি নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিজেপির প্রতিনিধি দলে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী, প্রতিমা ভৌমিক সহ অন্যান্যরা। বিধায়ক অগ্নিমিত্রা এবং সাংসদ জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতো দলের সঙ্গে রয়েছেন। এদিকে জানা যাচ্ছে এর মধ্যে শিবু হাজরার গ্রেফতারির দাবীতে পোষ্টার পড়েছে সন্দেশখালিতে। সন্দেশখালি যাওয়ার আগে রামপুরে রাজ্য পুলিশ আটকায় বিজেপির প্রতিনিধি দলকে। বচসা হয় বিজেপি নেত্রীদের সঙ্গে।
It is unfortunate & despicable that @BJP4India is targeting @AITCofficial govt in Bengal by politicising incidents at Sandeshkhali. It’s a well orchestrated exercise before the Lok Sabha polls against the one CM who is standing up to them. @MamataOfficial has already made it… pic.twitter.com/om2LeOTl9Q
— Sagarika Ghose (@sagarikaghose) February 16, 2024
বিজেপির কেন্দ্রীয় দলের প্রতিনিধিরা বসে পড়েন রাস্তায়। সন্দেশখালিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আগামী সোমবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা। রামপুরের রাস্তায় বসে শাসক বিরোধী শ্লোগান দিচ্ছে বিরোধীরা। সন্দেশখালির (Sandeshkhali) ন্যাজাট থানা এলাকায় পৌঁছলেন দিলীপ ঘোষ। তবে তিনি সন্দেশখালি যাচ্ছেন না। বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল সন্দেশখালি যেতে পারেনি। তারা রামপুর থেকে সরাসরি রাজভবনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। রাজ্যপালের সাথে দেখা করে পরিস্থিতির কথা জানাবেন তারা। রিপোর্ট দেওয়া হবে জেপি নাড্ডাকেও। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন (Suvendu Adhikary),‘আমি এ ব্যাপারে কোনও অভিযোগ করছি না। কিন্তু যেভাবে পুলিশ বুট দিয়ে আমার পায়ে আঘাত করল তা থেকেই স্পষ্ট পুলিশের মানসিকতা বর্তমানে কোন জায়গায় পৌঁছেছে।’

সন্দেশখালি যাওয়ার পথে বাধা, রাস্তায় বিক্ষোভ দেখিয়ে রাজভবনে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল
পাশাপাশি শুভেন্দু এও বলেন, ‘বিরোধী দলনেতাকে যেহেতু জুতো মেরেছেন তাই ওই পুলিশে পদোন্নতি খুব শীঘ্রই হবে।’ সন্দেশখালি নিয়ে রাজ্যসভায় তৃণমূল মনোনীত প্রার্থী সাগরিকা ঘোষ শুক্রবার বলেন,‘‘সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করে তৃণমূলকে ‘টার্গেট’ করছে বিজেপি। এটা দুর্ভাগ্যজনক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী, যিনি ওদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। মমতা ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাজ্যে মহিলাদের উপর অত্যাচার বরদাস্ত করা হবে না। তদন্ত করা হবে। মমতা রাজ্যের মহিলাদের জন্য যা করেছেন, আর কোনও দল তা করেনি।’’ সন্দেশখালি নিয়ে বর্তমানে উতপ্ত রাজ্য রাজনীতি।



