সামনেই মহারণ। এর মধ্যেই বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই শেখ শাহজাহানের অনুগামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগে উতপ্ত সন্দেশখালি। কার্যত জ্বলছে সন্দেশখালি। স্থানীয়দের সঙ্গে দেখা করতে আজ সন্দেশখালি গেছে বাম বিজেপি কংগ্রেস। এর মধ্যেই বিধানসভায় সন্দেশখালি নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বিধানসভার অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,

আরও পড়ুন: সন্দেশখালি অভিযান রাজ্যের বিরোধী শিবিরের, অশান্তির আশঙ্কায় স্থানীয়রা
‘জীবনে কোনদিন অন্যায়কে প্রশ্রয় দিইনি। আমি উদ্যোগ নিয়ে রাজ্য কমিশনকে পাঠিয়েছি, প্রশাসনকে পাঠিয়েছি, ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আপনারা দেখেছেন যারা মুখে মাস্ক পড়ে ছবি তুলছে, ধরাও পড়েছে, বিজেপির কর্মী, কীভাবে তারা বাইরে থেকে নিয়ে এসে একটা এলাকাকে অশান্ত করার চেষ্টা করেছে।’ পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন,’আগে টার্গেট শেখ শাহজাহান। ওকে টার্গেট করে ইডি ঢুকল। তারপরেই সবাইকে বের করে দিয়ে সন্দেশখালির আদিবাসী- সংখ্যালঘুদের মধ্যে ঝামেলা লাগিয়ে দিল। কারও কোন ক্ষোভ বিক্ষোভ থাকতেই পারে, আমাদেরও তো মহিলা দল আছে ওখানে, পুলিশেরও একটা মহিলা দল আছে, ঘরে ঘরে যাচ্ছে, কার কী অভিযোগ শুনতে। শুনে এসে রিপোর্ট করলে সেই মত আমরা কাজ করব। সন্দেশখালি আজকে নতুন নয়, ওখানে আরএসএস এর একটা বাসা আছে। এর মধ্যে বহিরাগত নিয়ে অশান্তি করছে।’ এর মধ্যে এদিন চোপড়ার ঘটনা নিয়ে বিএসএফকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,”বিএসএফ-এর কাজ কী? সীমান্ত পাহাড়া দেওয়া। চোপড়ায় ৪টি বাচ্চা মারা যায়, আজ মাননীয় রাজ্যপালের কাছে আমাদের দল গিয়েছিল। এখানে ওরা ৩৩৪টি দল পাঠিয়েছে, তাহলে চোপড়ায় যদি ৪টি শিশু মারা যায়, শিশুদের জীবনের কী কোনও দাম নেই? সেই বিএসএফ-এর আমি শাস্তি চাই, যাদের জন্য বাচ্চাগুলো মারা গিয়েছে। কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। বিএসএফ আর কী করে বেড়াচ্ছে? আমাকে একজন বিধায়ক অভিযোগ করেছেন, তার বিধানসভা এলাকায়, একটা মসজিদ আছে, ইমামকে টেনে হেঁচড়ে বের করেছে মুর্শিদাবাদে। এলাকায় এলাকায় গিয়ে গেরুয়া রঙের প্যাকেটে জিনিস বণ্টন করছে। কে তোমরা? তোমার কাজ সীমান্ত পাহাড়া দেওয়া, তোমার কাজ বিজেপির ক্যাম্প করা নয়। ভোটের আগে বিজেপির ক্যাম্প করছে বিএসএফ, এর জবাব কারা দেবে?’

সন্দেশখালির সব দায় বিজেপির, বিধানসভায় বললেন মুখ্যমন্ত্রী
প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি সন্দেশখালি (Sandeshkhali) শাহজাহানের বাড়িতে রেশন দুর্নীতির অভিযোগে তল্লাশি চালাতে গিয়েছিল ইডি। বর্তমানে নিখোঁজ শাহজাহান। এর মধ্যে শাহজাহান জানিয়েছেন ইডি (ED) যদি তাকে গ্রেফতার না করে, তবে তিনি হাজিরা দিতে রাজী আছেন। উল্লেখ্য, আজ বিধানসভা থেকে সন্দেশখালির সব অশান্তির দায় বিজেপির ঘাড়ে চাপিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।



