বাংলার নির্বাচনের আগে মহিলা ভোটব্যাঙ্কে সরাসরি আঘাত হানতে একগুচ্ছ বড় প্রতিশ্রুতি দিল বিজেপি। মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা, সরকারি চাকরিতে ৩৩% সংরক্ষণ, নিরাপত্তায় ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’—অমিত শাহের ঘোষণায় স্পষ্ট, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটিতেই এবার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ছে পদ্মশিবির।
শুক্রবার কলকাতায় বিজেপির ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মহিলাদের ক্ষমতায়নকে সামনে রেখে একাধিক প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘোষণাগুলির লক্ষ্য একটাই—রাজ্যের মহিলা ভোটারদের বড় অংশকে আকৃষ্ট করা, যা দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ভিত্তি।


সংকল্পপত্রে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় এলে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের মহিলাদের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এককালীন ২১ হাজার টাকা সহায়তা এবং পুষ্টি কিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। ছাত্রীরা স্নাতকে ভর্তির সময় ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পাবে—তবে শর্ত, তারা অবিবাহিত হতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্যও এককালীন ১৫ হাজার টাকার সহায়তার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, মহিলাদের নিরাপত্তাকেও বড় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছে বিজেপি। শহর ও জনবহুল এলাকায় ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’ গঠন, প্রতিটি মহকুমায় মহিলা থানার প্রতিশ্রুতি এবং পুলিশ-সহ সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ—এই তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্যাতিতাদের পুরনো মামলাগুলি পুনরায় খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দিয়েছেন শাহ।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ৪০ ঊর্ধ্ব আর্থিকভাবে দুর্বল মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধী HPV টিকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ব্যবসা শুরু করতে ঋণ ও পড়াশোনার জন্য আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে সংকল্পপত্রে।


তবে বিজেপির এই ঘোষণাকে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, বিজেপির এই সংকল্পপত্র আসলে ‘কপি ক্যাট’। তাঁর বক্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা ভাবেন, বিজেপি পরে তা নকল করে।” একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, অন্য রাজ্যে বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দেয়, সেগুলি আদৌ বাস্তবায়িত হয় কি না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ একাধিক প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের মধ্যে যে আস্থা তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা ভাঙা সহজ হবে না। তবে বিজেপির এই নতুন প্রতিশ্রুতিগুলি ভোটের সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই বলা কঠিন।








