নজরবন্দি ব্যুরোঃ ২০০ টির বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসবে বিজেপি, এমন কথা একাধিকবার বলেছেন অমিত শাহ। কিন্তু ক্রমাগত আদি এবং নব্য লড়াইয়ের মাঝে এবার আড়াআড়ি ফাটল দেখা দিল বিজেপিতে। এবার আর আদি বনাম নব্যের লড়াই নয় আড়াআড়ি ফাটলের পথে বঙ্গ বিজেপি। তৃণমূল থেকে একাধিক নেতা কে ভাঙিয়ে গত কয়েক মাস ধরে সেজে উঠেছে পদ্ম বন কিন্তু সেটাই এবার হিতে বিপরীত হতে চলেছে। চরম বিড়ম্বনার মুখে BJP!
আরও পড়ুনঃ লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির জের! রাত পোহালেই জীবনে বদল আসছে মধ্যবিত্তের।
ঘটনাস্থল বীরভূমের সিউড়ি। আদি বিজেপির বিক্ষুব্ধ কর্মীরা নব্যের দাপটে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে এবার নতুন দল গঠনের ডাক দিল। দলে নাম ‘শিবশক্তি পার্টি’। সিউড়ি শহর জুড়ে দেখা যাচ্ছে সেই পোস্টার। পোস্টারে বিজেপি কর্মীদের ওই নতুন দলে যোগ দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। এই পোস্টার নজরে পড়েছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের। এবং তা নিয়ে যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিজেপিতে। পোস্টারে লেখা হয়েছে, “জয় শ্রীরাম/ভারত মাতা কি জয়। শিব শক্তি পার্টি।” আর তার ঠিক নীচে লেখা আছে “আমরা একটি নতুন দল গঠন করতে চলেছি। যারা বিজেপিতে থেকে হিন্দুদের জন্য কাজ করতে পারেননি তাঁরা আমাদের দলের সদস্য হন।”
জেলা রাজনৈতিক মহলে এই পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যাপক অস্বস্তিতে পড়া বিজেপি জেলা নেতৃত্ব ব্যাপারটির অস্বস্তি এড়াতে নতুন পন্থা অবলম্বন করেছে। জেলা বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, আমাদের কর্মীদের মনোবল ভাঙতে তৃণমূল এই চক্রান্ত করেছে। কিন্তু কেন? সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির দাবি, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সিউড়ি কেন্দ্রে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল।
আর এই পিছিয়ে থাকার কারনেই কিছু বিজেপি কর্মীকে ভুল বুঝিয়ে ভোট ভাগ করার চেষ্টা করছে শাসক দল! এদিকে তৃণমূল থেকে বড় বা মাঝারি নেতারা বিজেপিতে যোগ দিলেও বিজেপি গ্র্যাসরুট স্তরের অনেক কর্মী যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন আগে সিউড়িতে দলের যুব মোর্চার সহ-সভাপতি অনিন্দ্য সিংহ এবং সম্পাদক কুন্তল ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থক তৃণমূলে যোগ দেন। পাশপাশি আদি নব্যর গোষ্ঠী কোন্দল এড়াতে পারছে না গেরুয়া শিবির। তার ওপর টিকিট দেওয়া নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থী হতে চাওয়ার তালিকায় রয়েছেন মহিলা মোর্চার জেলা সভাপতি, জেলা পর্যবেক্ষক, এসটি মোর্চার জেলা সভাপতি, যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক, জেলার যুব মোর্চার এক রাজ্য নেতা, বিজেপির মুখপাত্র, শিক্ষক সংগঠনের একাধিক জেলা নেতা, বিজেপির জেলা সম্পাদক-সহ জেলার বিভিন্ন মন্ডলের সভাপতিরাও। প্রার্থী হতে চাওয়ার বহর দেখে রীতিমত বিড়ম্বনায় পড়েছেন বিজেপির ভোট ম্যানেজাররা।



