‘তোলাবাজি করলে ডিমভাজি ফ্রি’, বিজেপিতে ‘তৃণমূলীকরণ’ নিয়ে দলের কর্মীর পোস্টারে অস্বস্তি

বিজেপিতে অন্য দল থেকে আসা নেতাদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ দলেরই কর্মীর। করুণাময়ী মোড়ে পোস্টার দিয়ে ‘তৃণমূলীকরণ’ ও তোলাবাজির অভিযোগের বিরুদ্ধে সরব সঞ্জয় পয়রা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: বিজেপির অন্দরে ‘তৃণমূলীকরণ’ নিয়ে এবার প্রকাশ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কলকাতার করুণাময়ী মোড়ে পোস্টার দিয়ে দলেরই এক কর্মী বার্তা দিলেন— ‘তোলাবাজি করলে ডিমভাজি ফ্রি’। স্থানীয় বিজেপি কর্মী সঞ্জয় পয়রার দাবি, অন্য দল থেকে বিজেপিতে আসা কিছু নেতার বিরুদ্ধে ওঠা ‘তোলাবাজি’র অভিযোগ দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

করুণাময়ী মোড়ে লাগানো ওই পোস্টারে লেখা হয়েছে, ‘দলে তৃণমূলীকরণ হচ্ছে বলেই তোলাবাজি চলছে বেড়েই/ তোলাবাজি করলে ডিমভাজি ফ্রি।’ পোস্টার ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

পোস্টারদাতা সঞ্জয় পয়রা বলেন, বিজেপির ‘আধখোলা দরজা’ দিয়ে তৃণমূলের একাংশ দলে ঢুকছে। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ‘তোলাবাজি’র অভ্যাস ছাড়তে পারছেন না। এতে দলের কর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা যাচ্ছে বলেও দাবি তাঁর।

বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ ও তোলাবাজির অভিযোগে করুণাময়ী মোড়ে পোস্টার
বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ ও তোলাবাজির অভিযোগে করুণাময়ী মোড়ে পোস্টার

সঞ্জয়ের কথায়, বিজেপি যে ক্ষমতায় এসেছে, তার পিছনে রয়েছে মানুষের ভোট। তাই নতুন করে দলে আসা কোনও নেতা বা কর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি কিংবা তোলাবাজির অভিযোগ উঠলে তার দায় দলের উপরও এসে পড়ে। সেই কারণেই আগেভাগে সতর্ক করতেই তিনি এই পোস্টার দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

তবে এই পোস্টারের পিছনে সাম্প্রতিক ‘ডিম হামলা’ বিতর্কও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) এর আগেও সতর্ক করেছিলেন, মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে রাজনৈতিক নেতাদের দিকে ডিম ছোড়ার প্রবণতা কোনও সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশের লক্ষণ নয়। এমনকি এই প্রবণতা একসময় বিজেপির নেতাদের দিকেও ঘুরে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন তিনি।

গত কয়েক সপ্তাহে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টও (Calcutta High Court) উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এই ধরনের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে রাজ্যকে পদক্ষেপ করতে বলেছে।

সঞ্জয় পয়রার দাবি, সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি বিজেপির ক্ষেত্রে যাতে না ঘটে, সেজন্য দলের ভিতরেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, ‘তৃণমূলীকরণ’ এবং তোলাবাজির অভিযোগ যদি বন্ধ না হয়, তাহলে জনরোষের প্রতিক্রিয়া বিজেপির উপরও পড়তে পারে।

ফলে করুণাময়ী মোড়ের এই পোস্টার শুধু একজন কর্মীর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, নাকি বিজেপির সাংগঠনিক পরিসরে আরও বড় অসন্তোষের ইঙ্গিত— তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পোস্টারকে ঘিরে দলের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন