পাকিস্তানে লশকর কমান্ডারের রহস্যমৃত্যু, রেস্তরাঁ থেকে বেরিয়েই মসজিদের সামনে লুটিয়ে পড়লেন

রেস্তরাঁয় খাওয়ার পর মসজিদে যাওয়ার পথে আচমকাই অচৈতন্য হয়ে পড়েন লশকর-এ-ত্যায়বার কমান্ডার ক্কারী সইদ আবদুল আজ়িজ়; হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যু, কারণ ঘিরে রহস্য।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: পাকিস্তানে ফের রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যু হল নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী লশকর-এ-ত্যায়বার (Lashkar-e-Taiba) এক শীর্ষ পর্যায়ের সদস্যের। স্থানীয় ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে মৃতের নাম ক্কারী সইদ আবদুল আজ়িজ় (Qari Saeed Abdul Aziz) বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, রেস্তরাঁয় খাওয়াদাওয়া সেরে মসজিদে যাওয়ার পথে আচমকাই তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার একটি রেস্তরাঁয় খাওয়ার পর প্রার্থনার জন্য মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন আজ়িজ়। মসজিদের প্রবেশপথের কাছেই আচমকা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনাটির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ঠিক কী কারণে মৃত্যু হল লশকর কমান্ডারের? এখনও পর্যন্ত কোনও নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্র থেকে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে স্বাভাবিক মৃত্যু, অসুস্থতা নাকি অন্য কোনও কারণ—তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। খাবার খাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

ক্কারী সইদ আবদুল আজ়িজ়ের ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁকে জম্মু-কাশ্মীরে নিহত লশকর জঙ্গিদের পরিবারকে সহায়তা করা একটি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর নির্দিষ্ট সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য এখনও সীমিত।

এর মধ্যেই লশকর-এ-ত্যায়বার আর এক শীর্ষ নেতা রিজ়ওয়ান হানিফ (Rizwan Hanif)-এর সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। হানিফ দাবি করেছিলেন, গত তিন-চার বছরে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় লশকরের ৩০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। পেশোয়ার, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, মুজ়ফ্‌ফরাবাদ ও রাওয়ালকোটের মতো জায়গায় সদস্যদের নিশানা করা হয়েছিল বলেও তাঁর দাবি।

হানিফ এই হত্যাকাণ্ডগুলির পিছনে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীদের দায়ী করার পাশাপাশি ভারতীয় এজেন্টদের জড়িত থাকার অভিযোগও তুলেছিলেন। তবে এই দাবি লশকর নেতার বক্তব্য হিসেবেই দেখা উচিত; স্বাধীন কোনও প্রমাণ দিয়ে ওই অভিযোগ নিশ্চিত করা হয়নি।

লশকর নেতৃত্বকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হল গত এপ্রিলের লাহৌর হামলা। লশকর-এ-ত্যায়বার সহ-প্রতিষ্ঠাতা আমির হামজা (Amir Hamza)-কে ১৬ এপ্রিল লাহৌরে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজেরা গুলি করে। তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ঘটনাটি এক বছরের মধ্যে তাঁর উপর দ্বিতীয় হামলা বলে রিপোর্ট হয়েছিল।

এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলির মধ্যে নতুন করে ক্কারী সইদ আবদুল আজ়িজ়ের মৃত্যু সামনে আসায় পাকিস্তানে লশকর নেতৃত্বের নিরাপত্তা এবং সংগঠনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে তাঁর মৃত্যুকে কোনও পরিকল্পিত হামলা বা নির্দিষ্ট পক্ষের অভিযান বলে চূড়ান্তভাবে দাবি করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে নেই। তদন্ত বা সরকারি বক্তব্য সামনে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন