নজরবন্দি ব্যুরোঃ পানিহাটির নবনির্বাচিত তৃণমূল কাউন্সিলর অনুপম দত্তকে খুন করা হয়েছে রবিবার সন্ধ্যায়। গতকাল সন্ধ্যায় পানিহাটির কাউন্সিলর অনুপম বাবু ওষুধ কিনতে বাজারে গিয়েছিলেন। একটি স্কুটির পিছনের সিটে বসেছিলেন তিনি। আচমকাই একজন যুবক পিছন থেকে এসে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাঁর মাথায় গুলি চালায়। লুটিয়ে পড়েন কাউন্সিলর। একই দিনে ঝালদায় গুলিতে নিহত হয়েছেন কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দু। জোড়া কাউন্সিলর খুনে শিহরিত বাংলা, আইনের শাসন নেই এই ইস্যুতে বিধানসভা উত্তাল হল বিজেপির বিক্ষোভে।
আরও পড়ুনঃ গরুপাচার-কাণ্ডে গ্রেফতারির সম্ভাবনা, ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ অনুব্রত।
আজ অধিবেশনের শুরুতেই বিজেপি বিধায়করা ওয়াক আউট করেন। দুই কাউন্সিলরের মৃত্যুতে পুলিশ মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিবৃতি চেয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। চলে স্লোগানিং। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি পুরসভার কাউন্সিলর অনুপম দত্ত খুনে রবিবার রাতেই গ্রেফতার হয়েছেন মূল অভিযুক্ত। তাঁকে পাকড়াও করেছেন একাবাসীরাই। তবে পুরুলিয়ার ঝালদায় কাউন্সিলর খুনে সোমবার সকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার জেরে সোমবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভা।
লজ্জা হচ্ছে, ঘৃণা হচ্ছে, ভয় করছে, শিউড়ে উঠছি… যেকোন মূল্যে ক্ষমতা দখলের লড়াই। বাংলা এগিয়ে নয়, পিছিয়ে গিয়েছে বর্বরতার যুগে। এই বাংলা চাইনা। ধিক্কার আপনাদের সবাইকে। একে অপরের দিকে আঙুল না তুলে একবার আমজনতার চোখে দেখুন ভিডিওটা।@Sujan_Speak @abhishekaitc @DilipGhoshBJP pic.twitter.com/gWcwKaa0sT
সদ্য প্রকাশিত
ফের অশান্ত মণিপুর! নাগা-কুকি সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত অন্তত ৩, বাড়ছে উত্তেজনা
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে INDIA জোটের মহাসমাবেশ, ৩৫০০ পুলিশ ও ২০০-র বেশি CCTV-তে নজরদারি— Arka Sana (@SanaArka) March 14, 2022
পুলিশ মন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এখন পর্যন্ত কোন প্রতিক্রিয়া না দিলেও মুখ খুলেছেন কলকাতার মেয়র তথা তৃণমূল শীর্ষনেতা ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেছেন, “এই ভাবে এক এক করে আমাদের কর্মীকে মেরে তৃণমূলকে শেষ করা যাবে না। আমি এর ধিক্কার জানাই। কাউন্সিলর মেরে কি তৃণমূলকে শেষ করা যাবে? এর পিছনে যারা রয়েছে, তাদেরকে এটা বুঝতেই হবে।”
উল্লেখ্য, পানিহাটিতে তৃণমূল কাউন্সিলর খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে অমিত পণ্ডিত নামে এক যুবক কে। তাঁর বাড়ি নদিয়ার হরিণঘাটায়। আজ তাঁকে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে। গতকাল কাউন্সিলর কে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে মাথায় গুলি করে পালানোর সময় তাঁকে ঘিতে ফেলে এলাকাবসীরা। আততায়ী সামনের একটি ঝোপে লুকিয়ে পড়লে সেখানে আগুন লাগিয়ে দেয় স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
জোড়া কাউন্সিলর খুনে শিহরিত বাংলা, বিধানসভা উত্তাল বিজেপির বিক্ষোভে।
ঝালদার ঘটনা নিয়ে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “ঝালদাতে কে বোর্ড গঠন করবে, সেটা ঠিক হয়নি। এই সময়ে কংগ্রেসের কাউন্সিলরের মৃত্যু এই প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে ভবিষ্যতে চেয়ারম্যান পদ পাওয়ার জন্য কি কোনও জনপ্রতিনিধির প্রাণ চলে যেতে পারে? ঠিক একইভাবে পানিহাটির ক্ষেত্রে দেখছি, পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয়েছে। কে কোন দলের সেটা বড় কথা নয়। তাঁরা নির্বাচিত হয়েছিলেন, জনপ্রতিনিধি, তাঁদেরকে সুরক্ষা দিতে রাজ্য সরকার ব্যর্থ।”



