ভোটের লড়াই যত এগোচ্ছে, ততই জমছে রাজনৈতিক সমীকরণ। দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বড় চমক দিল বিজেপি। বাংলার ১১১টি আসনে প্রার্থীর নাম প্রকাশ করতেই স্পষ্ট—দল এবার কৌশল বদলে একাধিক হেভিওয়েট ও নতুন মুখকে একসঙ্গে মাঠে নামাচ্ছে।
সবচেয়ে বড় চমক—ভাটপাড়া থেকে সরিয়ে নোয়াপাড়ায় প্রার্থী করা হয়েছে বিজেপির দাপুটে নেতা অর্জুন সিংকে। অন্যদিকে ব্যারাকপুরে ভরসা রাখা হয়েছে আইনজীবী কৌস্তুভ বাগচীর উপর। এই দুই কেন্দ্রে প্রার্থী বদল যে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই যায়।


বড় চমক রয়েছে সেলিব্রিটি প্রার্থী তালিকাতেও। অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এই প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে চলেছেন সোনারপুর দক্ষিণ থেকে। সেখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের লাভলি মৈত্র। অন্যদিকে নিজের গড় এগরা থেকেই লড়বেন অধিকারী পরিবারের সদস্য দিব্যেন্দু অধিকারী।
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে মাথাভাঙা থেকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। টালিগঞ্জে টিকিট পেয়েছেন পাপিয়া অধিকারী এবং যাদবপুরে শর্বরী মুখোপাধ্যায়। কৃষ্ণগঞ্জে বিদায়ী বিধায়ক আশিস বিশ্বাসকে বাদ দিয়ে নতুন মুখ সুকান্ত বিশ্বাসকে প্রার্থী করা হয়েছে।
মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ ও গাইঘাটায় পুরনো বিধায়কদের উপরই আস্থা রেখেছে দল—অশোক কীর্তনিয়া, স্বপন মজুমদার ও সুব্রত ঠাকুর যথাক্রমে প্রার্থী হয়েছেন। হাবড়ায় দেবদাস মণ্ডল, জগদ্দলে প্রাক্তন আইপিএস রাজেশ কুমার এবং বিধাননগরে চিকিৎসক শারদ্বৎ মুখোপাধ্যায়কে প্রার্থী করা হয়েছে।


সন্দেশখালি নিয়েও নজর কাড়ল বিজেপির সিদ্ধান্ত। সেখানে প্রার্থী হয়েছেন সনৎ সর্দার, আর হিঙ্গলগঞ্জে সন্দেশখালি আন্দোলন থেকে উঠে আসা মুখ রেখা পাত্রকে টিকিট দেওয়া হয়েছে।
কলকাতায় বেহালা পশ্চিমে যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি ইন্দ্রনীল খাঁ, কাশীপুর-বেলগাছিয়ায় রিতেশ তিওয়ারি এবং মানিকতলায় তাপস রায়কে প্রার্থী করেছে বিজেপি। বালিগঞ্জে প্রার্থী হয়েছেন শতরূপা।
তবে পানিহাটি কেন্দ্র এখনও ফাঁকা রেখেছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, সেখানে বড় চমক অপেক্ষা করছে—যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।


উল্লেখ্য, প্রথম দফায় ১৪৪টি আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বিজেপি। দ্বিতীয় দফায় আরও ১১২টি আসনের নাম প্রকাশের পর এখন বাকি রয়েছে ৩৮টি আসন। ইতিমধ্যেই প্রথম তালিকায় একটি পরিবর্তনও করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বিজেপির এই তালিকা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—এই নির্বাচনে আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়েই মাঠে নেমেছে পদ্ম শিবির।
দ্বিতীয় তালিকায় কারা কথায়ঃ
১. এগরা – দিব্যেন্দু অধিকারী
২. শ্যামপুর – হিরণ
৩. নোয়াপাড়া – অর্জুন সিং
৪. ব্যারাকপুর – কৌস্তভ বাগচী
৫. রাজারহাট-গোপালপুর – তরুণজ্যোতি তিওয়ারি
৬. সোনারপুর দক্ষিণ – রূপা গঙ্গোপাধ্যায়
৭. টালিগঞ্জ – পাপিয়া অধিকারী
৮. যাদবপুর – শর্বরী মুখোপাধ্যায়
৯. মাথাভাঙা – নিশীথ প্রামাণিক
১০. এন্টালি – প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল
১১. কাশীপুর বেলগাছিয়া – রীতেশ তিওয়ারি
১২. মানিকতলা – তাপস রায়
১৩. হিঙ্গলগঞ্জ – রেখা পাত্র
১৪. রামপুরহাট – ধ্রুব সাহা
১৫. বাঁকুড়া – নিলাদ্রীশেখর দানা
১৬. বালিগঞ্জ – শতরূপা
১৭. বেহালা পশ্চিম – ইন্দ্রনীল খাঁ
১৮. বিধাননগর – শারদ্বত মুখোপাধ্যায়
১৯. রাজারহাট-নিউটাউন – পীয়ূষ কানোরিয়া
২০. দমদম – অরিজিৎ বক্সী
২১. কামারহাটি – অরূপ চৌধুরী
২২. জগদ্দল – রাজেশ কুমার (IPS)
২৩. বীজপুর – সুদীপ্ত দাস
২৪. গাইঘাটা – সুব্রত ঠাকুর
২৫. বনগাঁ দক্ষিণ – স্বপন মজুমদার
২৬. বনগাঁ উত্তর – অশোক কীর্তনিয়া







