দিলীপ-মুকুল ঠাণ্ডা লড়াই! কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ডানা ছাঁটল দু-পক্ষের।

দিলীপ-মুকুল ঠাণ্ডা লড়াই! কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ডানা ছাঁটল দু-পক্ষের।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ দিলীপ-মুকুল ঠাণ্ডা লড়াই! ‘২১ জয়ের লক্ষ্যচ্যুত বঙ্গ বিজেপি-কে কড়া বার্তা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। লক্ষ্য ছিল ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে বাংলার মসনদে বসা। কিন্তু সেই লক্ষ্য আপাতত চ্যুত হয়ে দলীয় অন্তদ্বর্ন্দ্বে বিধ্বস্ত বঙ্গ বিজেপি। দিলিপ ঘশ এবং মুকুল রায় দু-পক্ষে কার্যত আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গিয়েছে বাংলার গেরুয়া বাহিনী। আর এই ঠাণ্ডা লড়াইয়ের ফলে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিজেপি-র সর্বভারতীয় নেতারা। তাই শেষপর্যন্ত আসরে নামানো হল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কে।

আরও পড়ুনঃ করোনা মুক্ত বাংলা গড়তে ১ কোটি যোদ্ধা-কে ময়দানে নামাল রাজ্য সরকার।

বিশেষ সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় বিজেপি রাজ্য বিজেপি-কে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে নিজেদের মধ্যে কোন্দল বাড়িয়ে দলের ক্ষতি না করে নির্বাচনে জেতার দিকে মনোনিবেশ করতে। অন্যদিকে বিজেপির মধ্যে মুকুল রায়ের সবথেকে ঘনিষ্ঠ রাজ্য বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া হল। এবার থেকে বিজয়বর্গীয়-র জায়গায় বঙ্গ বিজেপির বেশিরভাগ দায়িত্ব পালন করবেন শিবপ্রকাশ। বিজয়বর্গীয়কে বলা হয়েছে, বাংলার চাইতে মধ্যপ্রদেশে বেশি সময় কাটান।

দিলীপ-মুকুল ঠাণ্ডা লড়াই! বিজেপি সূত্র জানিয়েছে মুকুলের মত দিলীপ ঘোষকেও বার্তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সম্প্রতি রাজ্য সম্পাদক হিসেবে আরএসএস প্রচারক অমিতাভ চক্রবর্তীকে নিয়োগ করা হয়েছে সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের জায়গায়। উল্লেখ্য বিষয় হল, সুব্রত চট্টোপাধ্যায় দিলীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাই তাকে সরিয়ে দেওয়ায় খুশি হননি দিলীপ ঘোষ। তবে বিরক হলেও এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোন মন্তব্য করেননি তিনি।

অন্যদিকে দুর্গাপুজোর মহাসপ্তমীর দিন হঠাৎ করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বিজেপি যুব মোর্চার সমস্ত জেলা কমিটি বাতিল ঘোষণা করেন। যে কমিটি গঠন করেছিলেন মুকুল ঘনিষ্ঠ সৌমিত্র খাঁ। এরপর পদত্যাগের নাটক করেন তিনি। কিন্তু যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই ইস্তফা প্রত্যাহার করে নেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। কিন্তু তাতে ড্যামেজ কন্ট্রোল হয়নি। জানা গিয়েছে সাংসদ সৌমিত্র খাঁর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে চলেছে বিজেপি। 

অন্তর্দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত দিয়ে বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ অনুপম হাজরা কদিন আগে মন্তব্য করেন, এভাবে চলতে থাকলে আগামী বছর বাংলায় ক্ষমতায় নাও আসতে পারে বিজেপি! তখন রাজ্য ছেড়ে পালাতে হবে। উল্লেখ্য, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি নেতা এই অন্তর্দ্বন্দ্বের বিষয়ে জানিয়েছেন, ২১ নির্বাচনে বাংলা দখল ছিল লক্ষ্য। কিন্তু এখন যা পরিস্থিতি তাতে সেই লক্ষ্যচ্যুতি ঘটেছে। এখন শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে রাজ্য বিজেপি নেতাদের এক সূত্রে বাঁধতে।

নজরবন্দি-র পক্ষে বিজেপি নেতাকে প্রশ্ন করা হয়। কেন হচ্ছে অন্তর্দ্বন্দ্ব? উত্তরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতা বলেন, দলের মধ্যে দু’‌টো ভাগ তৈরি। দিলীপ ঘোষের শিবির ও মুকুল রায়ের শিবির। তৃণমূল বা অন্য দল থেকে যাঁরা বিজেপিতে আসছেন, তাঁরা মুকুলের পক্ষ নিচ্ছেন। যারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় বিজেপি করেন, তাঁরা দিলীপের পাশে। অন্যদিকে মাথা চাড়া দিচ্ছে রাহুল শিবিরও!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x