করোনা মুক্ত বাংলা গড়তে ১ কোটি যোদ্ধা-কে ময়দানে নামাল রাজ্য সরকার।

করোনা মুক্ত বাংলা গড়তে ১ কোটি যোদ্ধা-কে ময়দানে নামাল রাজ্য সরকার।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ করোনা মুক্ত বাংলা গড়তে বড় উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। সবার অলক্ষে দুর্গা পুজোর বোধনের দিন থেকেই রাজ্যের অলি গলিতে নামানো হয়েছে প্রায় এক কোটি নয়া করোনা যোদ্ধা কে। এই করোনা যোদ্ধারা রাজ্যের প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে যাবে নভেম্বরের মধ্যেই। বাড়ি বাড়ি ঘুরে তাঁরা করনাভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করার পাঠ পড়াচ্ছেন নাগরিকদের।

আরও পড়ুনঃ নামছে ভোরের তাপমাত্রা, তবে কি শীত প্রবেশ করেছে বঙ্গে? উত্তর দিল হাওয়া অফিস।

শারদ আবহে সবার অলক্ষ্যে রাজ্যের প্রায় ১০ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী নেমে পড়েছে করোনা যুদ্ধ জয়ের লক্ষ্যে। প্রতিটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে আছেন গড়ে ১০ জন মহিলা। যার সদস্য সংখ্যা প্রায় এক কোটি। স্বাস্থ্য দফতরের প্রশিক্ষন সাথে নিয়ে এই এক কোটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা প্রথমে নিজের পরিবার অর্থাৎ প্রায় পাঁচ কোটি মানুষকে সচেতন করছেন। পাশাপাশি পারা প্রতিবেশীদেরও সচেতন করছেন তাঁরা!

করোনা মুক্ত বাংলা গড়তে ১ কোটি যোদ্ধা-কে ময়দানে নামাল রাজ্য সরকার। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যাদের হাতে করোনা বধে যে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে তা হল, স্বাস্থ্যদপ্তরের দেওয়া প্রশিক্ষণ, লিফলেট ও ট্যাব। ট্যাবেই বন্দি হচ্ছে রাজ্যের বাসিন্দাদের শারীরিক তথ্য, সুস্থ বা অসুস্থ থাকার খতিয়ান। বাড়ি বাড়ি ঘুরে মহিলারা মাস্ক পরা, হাত ধোয়া ও স্যানিটাইজার ব্যবহারের গুরুত্ব বোঝাচ্ছেন। আশাকর্মীদের সঙ্গে করোনা রোধে এই সদস্যরাও এবার যুক্ত হলেন।

প্রসঙ্গত, নবান্নে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনার সময় এমন পরিকল্পনার কথা প্রথম বলেছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন চিকিৎসক ডাক্তার অভিজিৎ চৌধুরি।  নবান্ন সূত্রে খবর, ষষ্ঠীর সন্ধেয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের ওয়েবিনারে মিটিং হয়। তারপরেই কাজে নেমে পড়েছে প্রমিলা বাহিনী।

ডাক্তার অভিজিৎ চোধুরি জানিয়েছেন, “সামগ্রিকভাবে গ্রামের মানুষের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত না করতে পারলে দীর্ঘস্থায়ী করোনা উদ্যোগের সাফল্যে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। সেইজন্য বিজ্ঞানী ও প্রশাসনের নীতি নির্ধারকরা ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন। উদ্দেশ্য একটাই, গ্রামের মধ্যে যে সামাজিক শক্তি রয়েছে তাকে এই কাজে যুক্ত করা। রাজ্যে স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা বিশাল। এই মহিলারা ইঙ্গিত দিয়েছেন করোনা লড়াইয়ে তাঁরাও অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারেন। তাই স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে কাজে লাগানো হচ্ছে।”

অভিজিৎ বাবু আরও বলেন, “আন্দোলনের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে করোনা সচেতনতার কাজ। সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু। যার ফল হবে দ্বিমুখী। বাড়িতে থাকা উপসর্গহীন রোগীর খোঁজ পাওয়া যাবে, সার্বিক চিত্র পাবে স্বাস্থ্যদপ্তর।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x