নজরবন্দি ব্যুরোঃ ২০০৬ থেকে ২০০৭ সালে সিঙ্গুরের কৃষকদের পক্ষ নিয়ে একটানা অনশনের বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেবার মমতার অনশন ভাঙাতে উপস্থিত হয়েছিলেন রাজনাথ সিং। এবার কৃষক ইস্যুতে মমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে বিজেপি। আগামী ১৪ থেকে ১৬ ডিসেম্বর সিঙ্গুরে ধর্নায় বসছে গেরুয়া শিবির।
আরও পড়ুনঃ কর্মীদের কারণেই হারতে হয়েছে মমতাকে, নন্দীগ্রাম নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য সুব্রত বক্সির


রাজ্যে কৃষকদের বঞ্চনার কথা একাধিকবার তুলতে দেখা গেছে বিরোধীদের। প্রধানমন্ত্রীর কিষাণ সম্মান নিধি প্রাপ্য টাকা কেন বাংলার কৃষকরা পাচ্ছেন না? সেই ইস্যুতে বিধানসভার প্রচারে নেমেছিলেন বিজেপি নেতারা। এবার কৃষকদের একাধিক সহায়ক মূল্য থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এবার ইস্যুকে সামনে রেখে ধর্নায় বসতে চলেছে গেরুয়া শিবির।

বিজেপির তরফে এই কর্মসূচীর কথা ঘোষণা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিন দিনের ধর্নায় উপস্থিত থাকার কথা একাধিক রাজ্য স্তরের নেতাদের। উপস্থিত থাকবেন কৃষক মোর্চার সভাপতি মহাদেব সরকার। বিজেপির বক্তব্য, ঘুর্ণিঝড় এবং নিম্নচাপের জেরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে চাষের। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এবিষয়ে রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়েছেন বিজেপি নেতারা। রাজ্যপাল যাতে বিষয়ে সরকারের ওপর চাপ তৈরি করে সেই প্রয়াস করছে বিজেপি।
বিজেপির এই কথায় ২০০৬ এবং ২০০৭ এর স্মৃতি রোমান্থন করছে রাজনৈতিক মহল। বাম জমানায় সিঙ্গুর নিয়ে তৎকালীন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বিরাট পরিকল্পনার পথে কাঁটা হয়েছিলেন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটানা আন্দলন এবং অনশনের কারণে সিঙ্গুর থেকে ন্যানো কারখানার তল্পী গুটিয়ে পালাতে হয়েছিল রতন টাটাকে। জমি অধিগ্রহণ নিয়ে মমতার সেই আন্দোলনে পাশে দাঁড়িয়েছিল বিজেপি। মমতার অনশন মঞ্চে উপস্থিত হয়েছিলেন রাজনাথ সিং। পরে সিঙ্গুরের সেই রাস্তা ধরেই ক্ষমতার রাস্তা খুঁজে পান তৃণমূল সুপ্রিমো।


কৃষক ইস্যুতে মমতার ওপর চাপ, তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়াল বিজেপি

সময় বদলে নন্দীগ্রাম আন্দোলনে মমতার সঙ্গী শুভেন্দু অধিকারী এখন বিজেপিতে। কৃষক ইস্যুতে তিনিই মমতার বিরুদ্ধে রণহুংকার দিয়েছেন। বেছে নিয়েছেন সিঙ্গুরের আন্দোলনের ভূমি। বললেন, অসহায় কৃষকদের পাশে না দাঁড়িয়ে তৃণমূল তাঁদের শাখ প্রশাখা বিস্তারে ব্যস্ত।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



