বাংলার নির্বাচনের মুখে মহিলাদের ও যুবকদের লক্ষ্য করে বড় আর্থিক প্রতিশ্রুতি দিল বিজেপি। মাসে ৩০০০ টাকা ভাতা থেকে চাকরি, নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোয় একাধিক ঘোষণা—অমিত শাহের ‘সংকল্পপত্র’ স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভোটের লড়াই এবার সরাসরি জনকল্যাণ বনাম জনকল্যাণের প্রতিশ্রুতির ময়দানে।
শুক্রবার কলকাতায় বিজেপির নির্বাচনী সংকল্পপত্র প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, প্রায় ১০ হাজার মানুষের পরামর্শের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে এই রূপরেখা, যা “বিকশিত বাংলা” গঠনের রোডম্যাপ। একইসঙ্গে তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের শাসনকে তীব্র আক্রমণ করে শাহ বলেন, বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছেন।


সংকল্পপত্রে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে সরাসরি আর্থিক সহায়তা, কর্মসংস্থান এবং নিরাপত্তার উপর। বিশেষ করে মহিলা ও যুব ভোটারদের টানতেই একাধিক প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্প, কৃষি, পরিকাঠামো ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন নিয়েও বড় প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
অমিত শাহের বক্তব্যে উঠে এসেছে অনুপ্রবেশ ইস্যুও। তাঁর আশ্বাস, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অনুপ্রবেশ রোখা হবে। পাশাপাশি “সোনার বাংলা” গড়ার লক্ষ্যে আগামী ৫ বছরে উন্নয়নের গতি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ক্ষমতায় এলে ভাতা ডবল! মহিলা ও যুবকদের মাসে ৩ হাজার দেওয়ার ঘোষণা, ভোটের আগে ‘শাহী’ প্রতিশ্রুতির ঝড়

🔽 একনজরে বিজেপির সংকল্পপত্রের প্রধান ঘোষণা:
- মহিলাদের মাসিক ৩০০০ টাকা ভাতা (নির্দিষ্ট তারিখে সরাসরি অ্যাকাউন্টে)
- বেকার যুবকদের জন্য মাসে ৩০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এককালীন ১৫,০০০ টাকা
- সরকারি চাকরিতে মহিলাদের ৩৩% সংরক্ষণ
- সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াত
- অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য এককালীন ২১,০০০ টাকা সহায়তা
- ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে কমিশন অনুযায়ী বেতন কার্যকর
- সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের ডিএ নিশ্চিত করা
- আয়ুষ্মান ভারত-সহ কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু
- ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’ গঠন করে মহিলা নিরাপত্তা জোরদার
- অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর ব্যবস্থা, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি
- ৬ মাসের মধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালুর প্রতিশ্রুতি
- ৫ বছরে ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্য
- স্টার্টআপ ও ক্ষুদ্র শিল্পে বিশেষ প্রণোদনা
- কৃষকদের থেকে সরাসরি ফসল ক্রয়, ধানের MSP ₹৩১০০ প্রতি কুইন্টাল
- প্রতিটি ব্লকে কোল্ড স্টোরেজ (আলু ও আমের জন্য)
- বন্ধ জুটমিল পুনরুজ্জীবন ও আধুনিকীকরণ
- কলকাতা মেট্রো সম্প্রসারণ ও শহর উন্নয়ন প্রকল্প
- কুলপি ও তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ
- উত্তরবঙ্গে AIIMS, IIT, ক্যানসার হাসপাতাল স্থাপন
- দার্জিলিংয়ে চা শিল্পের উন্নয়নে বিশেষ বোর্ড
- কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্তির প্রতিশ্রুতি
- জঙ্গলমহলে আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ
- মৎস্যজীবীদের জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সম্প্রসারণ
- পর্যটনে জোর, সুন্দরবনে টাইগার ট্যুরিজম উন্নয়ন
- বিধবা ও প্রবীণদের ভাতা দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি
- দুর্নীতির বিরুদ্ধে শ্বেতপত্র ও আইনি ব্যবস্থা
সব মিলিয়ে, বিজেপির এই সংকল্পপত্র স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে—বাংলার ভোটে এবার সরাসরি উন্নয়ন, ভাতা ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতিকেই প্রধান ইস্যু করতে চাইছে পদ্মশিবির।










