নজরবন্দি ব্যুরো: পঞ্চায়েত ভোটের সকাল থেকেই বাংলা জুড়ে তান্ডবলীলা চলছে। কোথাও ব্যালট লুঠ! কোথাও আবার ছাপ্পা! কোথাও বোমাবাজি, সংঘর্ষ, প্রাণহানির ঘটনা প্রতি মুহূর্তে উঠে আসছে। শাসক হোক বা বিরোধী শিবির রক্ত ঝরছে বাংলাজুড়ে। আর এই সন্ত্রাসের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না বাংলার মানুষজন। বাংলার এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বরাও।
আরও পড়ুন: বাহিনীকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি বোমা, পাল্টা গুলি চলল ৫ রাউন্ড, আতঙ্কে ভোটাররা


পঞ্চায়েতকে কেন্দ্র করে একের পর এক হিংসা অশান্তির ঘটনায় যেভাবে মৃত্যু ঘটে চলেছে তাতে রীতিমতো চিন্তিত দিল্লির নেতারা। যার দরুন ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে বঙ্গ বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের কাছে ফোন এসেছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বরা জানিয়েছেন, বিজেপির কর্মী সমর্থকদের প্রয়োজনীয় সব রকম সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনে চিকিৎসা সুবন্দোবস্ত ও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বঙ্গ বিজেপির নেতৃত্বদের। অন্যদিকে, বাংলায় ঘটে চলা এই সন্ত্রাস নিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাধা ঠাকুর। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “বাংলায় যে কোন ভোটে এই অরাজকতা, সন্ত্রাস চলতেই থাকে। রক্ত না ঝড়লে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন ভরে না? বাংলার ভোট মানেই গণতন্ত্রের হত্যা করা।”

প্রসঙ্গত, পঞ্চায়েতে দিনক্ষণ ঘোষণা হতে রীতিমতো সরগরম বাংলার রাজনীতি! এরপরেই মনোনয়ন পর্বে ফুটে ওঠে রাজ্যের একাধিক প্রান্তে হিংসার ঘটনা। কমিশনকে একাধিক হুঁশিয়ার, রাজ্য পুলিশের ব্যর্থতা ও সন্ত্রাস রুখতে বিরোধীদের আর্জি মেনে নিয়ে রাজ্য কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়নের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু তাতেও খুব একটা সুফল মেলেনি। এদিন ভোট পর্বের শুরু থেকেই রাজ্যের একের পর এক জায়গায় সংঘর্ষ, বোমাবাজি, এমনকি গুলি চালানোরও অভিযোগ উঠেছে! শুধু তাই নয়, সকাল থেকে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এখন প্রশ্ন একটাই, রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়ন করার পরেও রাজ্যের একাধিক প্রান্তে সন্ত্রাস ছড়িয়েছে। এই সমস্ত ঘটনায় কমিশনারের সক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে সাধারণ মানুষ।



উল্লেখ্য, রাজ্যে একের পর এক দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে শাসকদলের হেভিওয়েট নেতাদের! পঞ্চায়েত ভোটের আগেই যার জেরে অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল। তবে দুর্নীতি গোড়া থেকে উগড়ে ফেলতে প্রায় দুমাস জেলায় জেলায় নবজোয়ার কর্মসূচি আয়োজিত করেছিলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পিছিয়ে থাকেনি বাকি রাজনৈতিক দলগুলি। সভার পাল্টা কর্মসূচি, হুংকারের বদলে হুঁশিয়ারি!! কিন্তু কে জিতবে এই ত্রিস্তরীয় নির্বাচন? শেষ হাসি হাসবে কারা? আজ রায় দেবে গ্রামবাংলা!
বাংলার পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে উদ্বিগ্ন দিল্লি! সুকান্তকে ফোন BJP-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের








