নজরবন্দি ব্যুরোঃ স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড় রাজ্য। হাইকোর্টের নির্দেশে চাকরি হারিয়েছেন খোল মন্ত্রী কন্যা এবং ২৬৯ জন শিক্ষক। তাঁরই মধ্যে গত সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেছিলেন, “আমি খোঁজ নিয়েছি, ১৭ হাজার শিক্ষকের চাকরি রয়েছে আমার কাছে। কিন্তু আমি নিয়োগ করব কীভাবে? আদালত অনুমতি না দিলে নিয়োগ করা তো সম্ভব নয়। আমি বরাবরই বলেছি, সব ক্ষেত্রেই আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে।”
আরও পড়ুনঃ বাতিল বহু লোকাল ট্রেন, সময়সূচি বদল একাধিক দূরপাল্লার ট্রেনের, দেখুন তালিকা

মঙ্গলবার আসানসোলে মমতার সভার মাঝে মঞ্চের কাছাকাছি জায়গা থেকে পোস্টার উঁচিয়ে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে দেখা যায়। চাকরিপ্রার্থীরা জানান, তাঁরা শুধু কাজের কথা বলতেই এসেছেন। যার উত্তরে মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আমি তো কোর্টের অর্ডারই মানব ভাই! আপনারা আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন। ১৭ হাজার চাকরি রেডি। পাঁচ হাজার জন নিজেদের ‘ডিপ্রাইভড’ মনে করেছিলেন, তাঁদের জন্যও চাকরির ব্যবস্থা করছি। কিন্তু আমি তো কোর্টে যাইনি। আপনারা গিয়েছেন!’’

আরও পড়ুনঃ প্রাথমিকে নজিরবিহীন দুর্নীতি, চাকরি হারাতে চলেছেন সাড়ে ১৭ হাজার কর্মরত শিক্ষক!
এরপরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিকাশবাবুদের (বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য) গিয়ে বলুন, আপনার তো টাকার অভাব নেই। আপনি আমাদের চাকরি বন্ধ করেছেন, আপনিই ব্যবস্থা করে দিন।’’ আজ মুখ্যমন্ত্রীর সেই কথার জবাব দেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী বলছেন আদালতে গিয়ে নিয়োগ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমাদের আদালতে যেতে হবে। আমরা আদালতে যাবো। সব ক্ষেত্রে দুর্নীতি। এই যে মাদ্রাসা শিক্ষা, যেটা একটা স্বীকৃত শিক্ষা, সেটাকে এভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। অবশ্য এটা নতুন কিছু না। পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুকৌশলে নষ্ট করে দিচ্ছেন। তার কারণ উনি চান যে বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাটাকে উন্নতি করতে।”
মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীকে ‘সংখ্যালঘু’ খোঁচা বিকাশের!

এরপরেই সুর চড়ান বিকাশ বাবু। তিনি বলেন, “SSC-র ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত দুর্নীতি হয়েছে। এই মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এ সম্পর্কেও তদন্ত হওয়া দরকার। আমি শুনলাম কোন একটা মাদ্রাসায় প্রায় বারোশো তেরোশোর মত ছাত্র আছে, সেখানে ছজন শিক্ষক আছে। আসলে এরা ঠিকভাবে নিয়োগ করবে না। আর যতটুকু করছে তাও আবার দুর্নীতিতে ভরা। মাদ্রাসায় এমন শিক্ষক নিয়োগপত্র পেয়েছেন যারা শিক্ষা নিযুক্তির যে পরীক্ষা তাতেই বসেনি। সামগ্রিকটাই দুর্নীতি, আবার উনি নাকি সংখ্যালঘুদের জন্য ভয়ানক চিন্তাভাবনা করেন! এই দ্বিচারিতা চালিয়ে যাচ্ছেন।”



