অঞ্জন বল, নজরবন্দিঃ ভারতের আসল রত্ন। বাঁধার পাহাড় ভেঙে দেওয়ার স্বপ্ন কে না দেখে কিন্তু ক’জনের বা সে সাহস থাকে। উড়িষ্যার কন্ধমালের মাউনটেন্ড ম্যান খ্যাত জলন্ধর নায়েকের কথা আমরা সবাই জানি। যিনি দুই বছর ধরে, প্রতিদিন আট ঘন্টা করে ছেনি আর হাতুড়ি নিয়ে পাহাড় কেটে ১৫ কিমি রাস্তা ফুলবাড়ি পর্যন্ত তৈরি করে ছেলের স্কুলে যাতায়াতের জন্য পথ সুগম করে তুলে ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ ফল বেরোলেও আটকে রয়েছে নিয়োগ। ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা।


কন্ধমাধব মাউনটেন্ড ম্যান জলন্ধর নায়েকের কয়েক বছর পর আবার বাঁধার পাহাড় ভেঙে দেওয়ার সাহস দেখালেন বিহারের গয়া এলাকার লুঙ্গি ভূঁইয়া। না তিনি খাল কেটে কুমির আনেন নি, উলটে তিনি ৩ কিমি খাল কেটে চাষের জন্য গ্রামে জল নিয়ে এসেছেন।
হ্যা, আবারও অদম্য জেদের কাছে হার মানল বাঁধার পাহাড়। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ৩ কিমি খাল কেটে পাহাড় থেকে ঝরে পড়া বৃষ্টির জল চাষের জন্য গ্রামের বুজে যাওয়া পুকুরের মধ্যে নিয়ে এসে জমা করার কাজ সারলেন কোথিলওয়ার লুঙ্গি ভূঁইয়া।
লুঙ্গি ভূঁইয়া জানান, গ্রামে জল না থাকায় গ্রামের অনেকেই চাষবাস করতে না পেরে গ্রাম ছেড়ে আর্থিক উন্নতির জন্য শহরে গিয়ে বসবাস করছেন। সেখানে তিনি একাই এই ৩০ বছর ধরে গরু চড়াতে জঙ্গলের ভেতর ঢুকে কাজ করে গেছেন। চেষ্টা চালিয়ে গেছেন পাহাড়ের চুড়ো থেকে ঝড়ে পড়া বৃষ্টির জল গ্রামে নিয়ে আসার জন্য। একটু একটু করে খাল কেটে গ্রামের মজে থাকা পুকুরে নিয়ে এসে চাষের জন্য বৃষ্টির জল জমা করেছেন তার হাতের শক্তি আর কোদালের খননের সাহায্যে। তবে এরজন্য তিনি নিজের কোন কৃতিত্ব নিতেও রাজি নন ৫৫ বছরের লুঙ্গি ভূঁইয়া।
ভারতের আসল রত্ন। গবাদি পশু নিয়ে তিনি জঙ্গলে যান এবং তাদের ছেড়ে খাল কাটার কাজ করেন। গত ৩০ বছর ধরে এটাই ছিল তাঁর রুটিন। যখন শুরু করেন তখন বয়েস ছিল ২৫ আর এখন ৫৫! অসম্ভব কে সম্ভব করেছেন ভারতের এই কৃষক। নজরবন্দির পক্ষ থেকে এই ধরনের মানুষ গুলোকে ভারত রত্ন দেওয়ার আর্জি রইল।


সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



