নজরবন্দি ব্যুরোঃ করোনার উৎস খুঁজতে সক্রিয় বাইডেন, ৯০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব গোয়েন্দাদের। ২০১৯ সালের শেষদিকে চীন থেকে মারণ করোনাভাইরাস ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা দেশে। তারপর থেকে গোটা বিশ্ব আজও আক্রান্ত এই ভাইরাসের প্রভাবে। কোটি কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন ও প্রাণ হারিয়েছেন এই ভাইরাসের কারণে। পাল্টে গিয়েছে গোটা বিশ্বের জীবনযাপনের সমীকরণ। প্রথমে শোনা গিয়েছিল চীনের উহানে পশু মাংসের বাজার থেকেই গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে এই মারণ ভাইরাস। তবে পরবর্তীকালে এই নিয়ে উঠে আসে নানা তথ্য।
আরও পড়ুনঃ আজ ফের নারদা মামলার শুনানি, হাইকোর্টে ৪ হেভিওয়েটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ।
কেউ বলেন এ হল চীনের জৈব অস্ত্র। যা ইচ্ছে করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে গোটা বিশ্বে। চীনেরই বহু বিজ্ঞানী এই নিয়ে নানা তথ্য দিতে শুরু করে। এদিকে চীনকে সমর্থনের কারণে WHO এর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন আমেরিকা প্রশাসন। তবে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পরা নিয়ে নানা তত্ত্ব বরাবর অস্বীকার করে চীন। তবে সেই উৎস খুঁজতে এবার উঠেপড়ে লাগলেন আমেরিকার নবনিযুক্ত জো বাইডেন প্রশাসন। এই ভাইরাসের উৎস খুঁজতে মার্কিন সংস্থাগুলিকে তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। প্রয়োজনে আরও বেশি পরিশ্রমেরও পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। যা দেখে ওয়াকিবহাল মহল বলছে, ট্রাম্প পরবর্তী সময়েও চিন-আমেরিকার দ্বন্দ্বের পারদ ফের চড়তে শুরু করবে। বিবৃতিতে বাইডেন জানিয়েছেন, করোনার উৎপত্তি নিয়ে গোয়েন্দারা এখনও দ্বিধাবিভক্ত।
কারোর দাবি, চিনের পশুবাজার থেকে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। কেউ আবার বলছেন চিনের গবেষণাগারেই তৈরি হয়েছে নোভেল করোনা ভাইরাস। কিন্তু কেউই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি। আমি মার্কিন গোয়েন্দাদের উত্তর খুঁজতে ৯০ দিন সময় দিয়েছি। ধোঁয়াশা মোড়া বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দরকার। বিশেষ করে এ বিষয়ে চিনের ভূমিকাও খতিয়ে দেখতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই ঘটনায় অন্যান্য সমমনস্ক দেশগুলিকেও পাশে চেয়েছেন বাইডেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলে ফের চীন চাপে পড়তে চলেছে বলেই মনে করছেন বিশেসজ্ঞরা।
করোনার উৎস খুঁজতে সক্রিয় বাইডেন, ৯০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব গোয়েন্দাদের। প্রসঙ্গত মঙ্গলবার করােনা মােকাবিলায় হােয়াইট হাউসের প্রবীণ উপদেষ্টা অ্যান্ডি ফ্লাভিত বলেন, “এই গােটা ঘটনার গােড়ায় যেতে হবে। ভাইরাসটির উৎস সন্ধানে চিন থেকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সযােগিতার প্রয়ােজন। তবে এমনটা আদৌ হচ্ছে বলে আমরা মনে করি না।” একই বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রধান চিকিৎসা উপদেষ্টা অ্যান্টনি ফাউচি বলেন, “আমরা মনে করি এই বিষয়ে (করােনার ভাইরাসের উৎস) তদন্ত চালিয়ে যাওয়া উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তদন্তের পর এবার পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার সময় এসেছে। কারণ ভাইরাসটির উৎস নিয়ে আমরা ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হতে পারিনি। তাই তদন্ত চালিয়ে যাওয়া জরুরি।”



