এক সময় যে ভবানীপুর ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ‘সেফ জোন’, সেই কেন্দ্রই এবার বড় ধাক্কা দিল তৃণমূল নেত্রীকে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত বুথভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, ভবানীপুর বিধানসভার মোট ২৬৭টি বুথের মধ্যে ২০৭টিতেই পিছিয়ে ছিলেন মমতা। শুধু তাই নয়, একাধিক বুথে তিনি ৫০টিরও কম ভোট পেয়েছেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
২০২১ সালে নন্দীগ্রামে পরাজয়ের পর ভবানীপুর উপনির্বাচনে জিতে বিধানসভায় ফিরেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কেন্দ্রেই পাঁচ বছর পর তাঁর বিরুদ্ধে তৈরি হল সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। এবার বিজেপি প্রার্থী তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১০৫ ভোটে হারতে হয়েছে তাঁকে।


কমিশনের বুথভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২২৭ নম্বর বুথে মমতা পেয়েছেন মাত্র ১২টি ভোট। এমন আরও বহু বুথ রয়েছে, যেখানে তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৫০-এর নিচে নেমে গিয়েছে।
১৪ নম্বর বুথে তিনি পেয়েছেন ৪৩ ভোট, ১৬ নম্বর বুথে ৪২, ২০ নম্বর বুথে ৪১ এবং ২৪ নম্বর বুথে ৪৫ ভোট। ৭৭ নম্বর বুথে তাঁর ঝুলিতে এসেছে ৪০ ভোট, ৮৯ নম্বর বুথে ৪১ এবং ১০৫ নম্বর বুথে মাত্র ৩১টি ভোট।
এছাড়াও ১৪৯ নম্বর বুথে মমতা পেয়েছেন ৪৪ ভোট, ১৫৮ নম্বরে ৪৬, ১৭৬ নম্বরে ২৯, ২৪২ নম্বরে ৪০, ২৪৯ নম্বরে ২৮ এবং ২৬৩ নম্বর বুথে মাত্র ৩০টি ভোট পেয়েছেন তিনি।


সব মিলিয়ে, ভবানীপুরে এমন ২৮টি বুথ রয়েছে যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫০ বা তার কম ভোট পেয়েছেন। যদিও শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষেত্রেও ৩৯টি বুথে ভোট সংখ্যা ৫০-এর নিচে ছিল, তবু সামগ্রিকভাবে তিনিই বুথের লড়াইয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনের হিসাব বলছে, শুভেন্দু অধিকারী ২০৭টি বুথে লিড পেয়েছেন। অন্যদিকে মমতা এগিয়ে ছিলেন মাত্র ৬০টি বুথে। শেষ পর্যন্ত ভবানীপুরে শুভেন্দুর জয়ের ব্যবধান দাঁড়ায় ১৫,১০৫ ভোট।
তবে কিছু বুথে এখনও মমতার প্রভাব স্পষ্ট ছিল। যেমন ১২ নম্বর বুথে তিনি পেয়েছেন ৫৭০ ভোট, যেখানে শুভেন্দুর ঝুলিতে এসেছে মাত্র ৬০ ভোট। আবার ১১ নম্বর বুথে মমতা পেয়েছেন ৭০ ভোট, শুভেন্দু পেয়েছেন ১০৬।
এই ফলাফল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ ২০২১ সালের ভবানীপুর উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৮৫ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালকে তিনি হারিয়েছিলেন ৫৮ হাজারেরও বেশি ভোটে। সে সময় ভবানীপুরের সাতটি ওয়ার্ডেই জয় পেয়েছিল তৃণমূল।
কিন্তু এবারের ভোটে সেই চেনা সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৫৮,৮১২ ভোট। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর প্রাপ্ত ভোট ৭৩,৯১৭। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুরের এই ফল শুধু একটি আসনের পরাজয় নয়, বরং বাংলার রাজনীতিতে বদলে যাওয়া ভোটের মনস্তত্ত্বেরও বড় ইঙ্গিত।










