পশ্চিমবঙ্গে বড়সড় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সাফল্যের দাবি করল বেঙ্গল স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং এলাকা থেকে হামিদ মণ্ডল নামে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর সঙ্গে জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed)-এর যোগসূত্র রয়েছে এবং তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র উপর সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। ধৃতের কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বিস্তারিত সফরসূচি-সংক্রান্ত নথিও উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। তবে এই অভিযোগগুলির বিচারিক সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
বেঙ্গল STF সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রেনেসাঁ হাউসিংয়ের একটি জিমে শরীরচর্চা করার সময় হামিদ মণ্ডলকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শুক্রবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে এবং হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানাতে পারে তদন্তকারী সংস্থা।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত হামিদ মণ্ডলের বাড়ি হাওড়ার পিলখানায়। তিনি একটি গেঞ্জি কারখানায় কাজ করতেন। প্রায় দুই মাস আগে তিনি পূর্ব বর্ধমানে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। এই সময়ে তাঁর গতিবিধির উপর নজর রেখেছিল গোয়েন্দারা বলেই সূত্রের দাবি।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, হামিদ জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত এবং কাশ্মীরভিত্তিক জঙ্গি নেতা সাজ্জাদ ভাট (Sajjad Bhat)-এর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে ছিলেন। আরও দাবি করা হয়েছে, তিনি পাকিস্তানে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন এবং আইএসআই (Inter-Services Intelligence)-এর নির্দেশে কাজ করতেন কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন।
এসটিএফের দাবি, ধৃতের কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সফরসূচি-সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী কোথায় যাচ্ছেন, কোন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, গাড়ি কোথায় পার্ক করা হবে, কখন তিনি যাতায়াত করবেন—এই ধরনের সংবেদনশীল তথ্য তাঁর কাছে ছিল। এই তথ্যগুলি সম্ভাব্য হামলার উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শুধু মুখ্যমন্ত্রী নন, আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ভিআইপি ব্যক্তির সফরসূচি-সংক্রান্ত তথ্যও উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। এই তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল, আর এর পিছনে কোনও বড় জঙ্গি নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল কি না, তা জানতে তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখন ধৃতের ডিজিটাল ডিভাইস, যোগাযোগের নথি, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের খুঁজে দেখছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গেও তথ্য আদানপ্রদান করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে নিরাপত্তা মহল। আদালতে ধৃতকে পেশ করার পর জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে তদন্তকারীদের অনুমান।



