বেলডাঙা অশান্তিতে কড়া হাইকোর্ট, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ, NIA তদন্ত হবে কি না সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র

বেলডাঙা অশান্তিতে উদ্বিগ্ন হাইকোর্ট। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ, জীবন ও জীবিকা রক্ষায় কড়া পদক্ষেপের বার্তা। NIA তদন্তের সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বেলডাঙায় সাম্প্রতিক অশান্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মুর্শিদাবাদে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী অবিলম্বে বেলডাঙায় মোতায়েন করার নির্দেশ দিল আদালত। একই সঙ্গে জীবন ও জীবিকা রক্ষায় জেলা প্রশাসন এবং পুলিশকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। NIA তদন্তের প্রশ্নে আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে—এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় সরকার।

মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট-এর প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেন-এর ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, বর্তমানে মুর্শিদাবাদে থাকা পাঁচ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে প্রয়োজনে বেলডাঙায় ব্যবহার করতেই হবে।

রায়ের কপিতে প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন,
“জীবন ও জীবিকা রক্ষা এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য এই বাহিনী যথাযথ ভাবে মোতায়েন করা হোক। যদি বাহিনী কম পড়ে, তবে রাজ্যের অনুরোধে কেন্দ্র আরও বাহিনী পাঠাতে অনুমোদন দিক।”

আদালতে মামলাকারীর অভিযোগ ছিল—মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় বাহিনী আগে থেকেই থাকলেও অশান্তির সময় তাৎক্ষণিক ভাবে তাদের ব্যবহার করা হয়নি। পরে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার পর বাহিনী নামানো হয়। এবার আদালত রাজ্যকে স্পষ্ট নির্দেশ দিল, কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহারে আর দেরি করা যাবে না।

এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল National Investigation Agency (NIA) তদন্তের দাবি। মামলাকারীর বক্তব্য, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বাইরে থেকে অর্থসাহায্য আসছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে NIA তদন্ত প্রয়োজন। এ বিষয়ে আদালত জানায়,
“NIA তদন্ত প্রয়োজন কি না, তা সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রের বিবেচনার বিষয়। কেন্দ্র যদি তদন্তের প্রয়োজন মনে করে, তবে পূর্ণ স্বাধীনতা তাদের থাকবে।”

উল্লেখ্য, বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবিতে সোমবার, ১৯ জানুয়ারি দুটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। মঙ্গলবার শুনানিতে মামলাকারীর আইনজীবী অভিযোগ করেন, প্রতিবাদের নামে পরিকল্পিত ভাবে বেলডাঙায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। রেলের সম্পত্তি ভাঙচুর, জাতীয় সড়ক অবরোধ এবং সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাও আদালতের নজরে আনা হয়। তাঁর দাবি, গোটা অশান্তি পূর্বপরিকল্পিত—যা পুলিশ সুপারও স্বীকার করেছেন।

মামলাকারী আরও জানান, গত বছর জুলাই মাসে একই ধরনের পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। অথচ এবার সামসেরগঞ্জ ও ধুলিয়ানে বাহিনী থাকা সত্ত্বেও বেলডাঙায় তা ব্যবহার করা হয়নি। তাঁর আবেদন ছিল, এলাকায় BNSS-এর ১৬৩ ধারা (পুরনো ১৪৪ ধারা) জারি করা হোক।

রাজ্যের তরফে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় ও পরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতকে জানান,
“আগের ঘটনায় ৫০০ জন গ্রেফতার হয়েছে, ঘরছাড়া মানুষকে ঘরে ফেরানো হয়েছে। শুক্রবারের ঘটনার পরও পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করেছে।”

রাজ্যের দাবি অনুযায়ী, শুক্রবার ঝাড়খণ্ডে আলাউদ্দিনের মৃত্যুর খবর ছড়ানোর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট নাগাদ এক সাংবাদিক আক্রান্ত হন। তারপর পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত ৩১ জন গ্রেফতার, চারটি মামলা রুজু হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী এলাকায় টহল দিচ্ছে বলেও রাজ্য জানিয়েছে।

বাজার খুলে যাওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে রাজ্য দাবি করলেও আদালত সন্তুষ্ট হয়নি। প্রধান বিচারপতির স্পষ্ট মন্তব্য, “ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। সেই বাহিনী ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে আরও বাহিনী আনতে কেন্দ্র অনুমোদন দিক।”

সব মিলিয়ে বেলডাঙা অশান্তি মামলায় হাইকোর্টের বার্তা স্পষ্ট—আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আর কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Arka Sana

Arka Sana

Founder & Editor, Najarbandi
16+ Years Experience • Political Reporting • Investigative Journalism • Digital Publishing

অর্ক সানা একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অপরাধ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক রিপোর্টিং, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল নিউজ প্রকাশনায় তাঁর ১৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নজরবন্দি-র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

View Full Author Profile →

বিজ্ঞাপন

আরও খবর