নজরবন্দি ব্যুরোঃ অবশেষে পাঁচদিনের মাথায় গ্রেফতার করা হল বেহালা–কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত। বেহালায় অশান্তির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বহিষ্কৃত তৃণমূল যুব নেতা সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে বাপন -সহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের গুন্ডাদমন শাখা। একাধিকবার মোবাইল ফোন, সিম বদল করেও গ্রেফতার এড়ানো গেল না। হাওড়ার জয়পুর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর সঙ্গে আরও ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মোবাইল ফোন ও গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বড় বদল রাজ্যে! পুলিশ, হাসপাতাল, দমকল এখন একটাই নম্বর


ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ এপ্রিল। বেহালার (Behala) চড়কতলায় যেখানে মেলা হয়, সেই মাঠের দখল কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে শুরু হয় চাপানউতোর। ১২১ নং ওয়ার্ড এলাকায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা, হাতাহাতি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। রাতের দিকে চলে বোমাবাজি। ভাঙচুর হয় তৃণমূলের একটি পার্টি অফিস। এরপর অশান্তি আরও চরমে ওঠে। এলাকায় দিনভর জারি ছিল উত্তেজনা। তারপর থেকেই বেপাত্তা হয়ে যায় বেহালার ১২১ নং ওয়ার্ডের যুব তৃণমূল সভাপতি সোমনাথ ওরফে বাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।

রবিবারই তাঁদের আলিপুর পুলিশ আদালতে তুলে হেফাজতে নেবার আবেদন জানানো হবে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরই গাড়িতে করে ওড়িশার বালেশ্বরে পালিয়ে যান বাবান। সেখানে একদিন থাকার পর তিনি তার সঙ্গীদের নিয়ে খড়্গপুর চলে যান, সেখান থেকে আবার দিঘায় চলে আসেন তিনি। দিঘা একদিন থাকার পর তিনি হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় জয়পুরে চলে আসেন। সেখানে তাঁরা বন্ধুর এক ‘ফার্ম হাউসে’ ছিলেন। সেখান থেকেই তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এই পাাঁচদিন ধরে বেশিরভাগ সময় গাড়িতেই কাটিয়েছেন বাবান। বার দু’য়েক গাড়িও বদল করেন তিনি। পুলিশকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য একবার ৪০৭ গাড়িও ব্যবহার করেন তাঁরা।


বেহালা-কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার হাওড়া থেকে সঙ্গে রয়েছে আরও ৬ জন

প্রসঙ্গত, চড়কমেলাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বেহালা পূর্ব বিধানসভার চড়কতলা এলাকা। মঙ্গলবার রাতে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় দু’পক্ষের মধ্যে। ইট ছোড়াছুড়ি এবং ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। অভিযোগ উঠেছে গুলি চলারও। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছ’জনকে আটকও করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বাবানকে দল থেকে বহিষ্কারও করে তৃণমূল।







