চিকিৎসক খুন ও ধর্ষণ-কাণ্ডের ৩ দিন পার। গ্রেফতার সেই একজন অভিযুক্ত যার নাম সঞ্জয় রায়। তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে রয়েছে সঞ্জয়। আর তাঁকে হেফাজতে রেখে একের পর খুন ও ধর্ষণ-কাণ্ডের জট খুলছেন লাল বাজার গোয়েন্দারা। আর এবার উঠে এল আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে এই ধৃত সঞ্জয়ের আসল বাড়ি বিহারে। তিনি এখানকার বাসিন্দা নয়। পাশাপাশি আর একটি খবর উঠে আসছে, এই ধৃত সঞ্জয় ঘটনার দিন রাতে যৌনপল্লিতে গিয়েও সময় কাটান।
সূত্রের খবর, এই সঞ্জয়ের আসল বাড়ি বিহারে, বহুদিন আগে কলকাতায় এসে ট্যাক্সি চালকের কাজ করতেন সঞ্জয়ের বাবা। সেই থেকেই তাঁদের কলকাতায় বাস। পাশাপাশি জানা গিয়েছে ঘটনার রাতে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সরকারিভাবে সঞ্জয়ের কোন ডিউটি ছিলনা। তারপরেও সেদিন রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ আরজিকর হাসপাতালে ব্যাক্তিগত কাজে আসে ওই সঞ্জয়। দেখা করেন পরিচিত অন্য এক সিভিক ভলেন্টিয়ারের সঙ্গে। এরপর সেদিন পশ্চিম মেদিনীপুরের সালুয়ায় পুলিশ ওয়েলফেয়ারের একটি বৈঠকে যোগ দেন তিনি। তারপর সেখান থেকে কলকাতায় ফিরে সরাসরি কালীঘাটের একটি যৌনপল্লিতে চলে যান সঞ্জয়।


এরপর ওই দিন আবার আসে আরজি কর হাসপাতালে। চেস্ট বিভাগের নাইট ডিউটিতে কারা রয়েছেন এবং সেমিনার হলে কারা রয়েছেন তা খতিয়ে দেখেন সঞ্জয়। এর পর ফের সেই সঙ্গী সিভিক ভলেন্টিয়ারকে নিয়ে চলে যায় সোনাগাছির একটি যৌনপল্লিতে। সেখানেই ওই দুই সিভিক ভলেন্টিয়ার সময় কাটান যৌন কর্মীদের সাথে। সে সময় এইদুজন মিলে প্রচুর মদ্যপ পান করেন বলেও খবর। এরপর সেখান থেকে সঞ্জয় ফের ওই আরজি কর হাসপাতালে একাই যায় বলে জানাই ওই সঙ্গী সিভিক ভলেন্টিয়ার। তবে বর্তমানে আরও কিছু তথ্যের অনুসন্ধানে এখনও পুলিশি জেরায় রয়েছে সঞ্জয়ের সঙ্গী।
তবে পুলিশের দাবি, সঞ্জয় ওই মদ্যপ অবস্থায় সেমিনার হলে গিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করের ওই তরুণীর উপর এই নারকীয় অত্যাচার চালায়। এদিকে চিকিৎসকের মৃত্যুর পর থেকেই প্রিন্সিপালের পদত্যাগন সহ পাঁচ দফার দাবি তুলে বিক্ষোভ করে আরজিকরের জুনিয়র ডাক্তার ও ইন্টার্ন পড়ুয়ারা। এরপরই সোমবার পদত্যাগ করলেন আরজিকরের প্রিন্সিপাল সন্দ্বীপ ঘোষ। তাঁর পরেও থামছে না এই বিক্ষোভ। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে আন্দোলনকারীরা দাবি করেন ছয় দফা দাবি মেনে নেওয়ার পরেই উঠবে তাঁদের এই আন্দোলন।







