নজরবন্দি ব্যুরোঃ এ তো রাগ নয়, এ যে অভিমান! শেষমেশ বক্সিদার বকুনি খেয়ে ঘরে ফিরল বেচারাম। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিধানসভায় গিয়ে স্পিকারের হাতে পদত্যাগপত্র দিয়ে এসেছিলেন হরিপালের বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বেচারাম মান্না। রাজনীতির ময়দানে গুঞ্জন উঠেছিল, আগামিকাল বেচার অনুগামীরাও দল থেকে পদত্যাগ করবেন। কিন্তু সেই গুঞ্জনে জল ঢেলে দিয়েছেন সুব্রত বক্সি।
আরও পড়ুনঃ সংক্রমণের গতি পরাস্ত্র সুস্থতার হারে। প্রায় সব জেলায় কমল আক্রান্তের সংখ্যা।
বেচারামের পদত্যাগের কথা শোনামাত্রই তোপসিয়ার তৃণমূল ভবনে ডেকে পাঠানো হয় তাঁকে। হরিপালের বিধায়ক কে ডেকে পাঠান সুব্রত বক্সি। সূত্রের খবর, অভিমানে-অনুযোগে চোখে জল চলে আসে বেচারামের। পরে সুব্রত বক্সির বকুনি খেয়ে বেচা জানিয়ে দেন কোনভাবেই দল ছাড়বেন না তিনি!
উল্লেখ্য, হুগলি জেলা তৃণমূলে রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের সঙ্গে বেচারামের বিরোধ দীর্ঘ দিনের। সম্প্রতি দলের ব্লক সভাপতি নির্বাচন ঘিরে কোন্দল মাত্রাছাড়া রূপ নেয়। রবীন্দ্রনাথ ঘোষের অনুগামী মহাদেব দাসকে সরিয়ে ব্লক সভাপতি করা হয় বেচারাম ঘনিষ্ঠ গোবিন্দ ধাড়াকে। এতে ব্যাপম চটেন বর্ষীয়ান নেতা রবীন্দ্রনাথ। প্রকাশ্যে দল ছাড়ার হুমকি দেন তিনি। এই কথা কানে যায় দলনেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের।
সূত্রের খবর, এই ঝামেলা মেটাতে বুধবার রাতেই বেচারামকে ফোন করেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দেন সিঙ্গুরের তৃণমূল সভাপতি পদে গোবিন্দ ধাড়াকে সরিয়ে মহাদেব দাসকে ব্লক সভাপতি করার। পাশাপাশি বেচাকে জানিয়ে দেন এ ভাবে আর টিকিট পাবেন না তিনি। এতেই মনঃক্ষুণ্ণ হন বেচারাম। সিদ্ধান্ত নেন দলই ছেড়ে দেবেন।
এ তো রাগ নয়, এ যে অভিমান! বক্সিদার বকুনি খেয়ে ঘরে ফিরল বেচা।বেচারামের অনুগামী সূত্রে খবর। ফোনে দলনেত্রীর বকুনি খেয়ে বুধবার রাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বেচারাম মান্না। পরে রাত কাটার পর বৃহস্পতিবার পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে আসেন স্পিকার বিমান বন্দোপাধ্যায়ের কাছে!



