নজরবন্দি ব্যুরো: রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তাঁর গ্রেফতারিতে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে। বিরোধীরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব। তবে এসবের মাঝে উঠে এল ১১ বছর আগে ঘটে যাওয়া এক ঘটনা। বরুণ বিশ্বাসকে মনে আছে? ২০১২ সালে গুলি করে হত্যা করা হয় তাঁকে। জ্যোতিপ্রিয়র গ্রেফতারির খবর উঠতেই তাঁর ফাঁসি চাইলেন বরুণ বিশ্বাসের পরিবার। রাজ্যের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁদের।
আরও পড়ুন: শান্তিনিকেতনে জ্যোতিপ্রিয়র কোটি টাকার বাড়ির হদিশ, পার্থর ‘অপা’র পর বনমন্ত্রীর ‘দোতারা’
বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের দাবি, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কারণেই বরুণের মৃত্যুর তদন্ত কার্যত হয়নি। নিহত সমাজকর্মীর বাবা স্পষ্ট বলেন, “জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ফাঁসি চাই।” এর পাশাপাশি ভাইয়ের মৃত্যু মামলায় নতুন করে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বরুণের দাদা অসিত বিশ্বাস। তাঁর দাবি, সিবিআই (CBI) তদন্ত করলেই আসল সত্য সামনে আসবে এবং জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ভূমিকা জানা যাবে। বরুণ বিশ্বাসের বাবার কথায়, “জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকই আমার বরুণকে খুন করেছে। আমি একটাই কথা বলব, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের যেন ফাঁসি হয়। আমার এটাই শেষ ইচ্ছা।”

বরুণ বিশ্বাসের দাদা অসিত বিশ্বাস বলেন, “জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সঙ্গে যুক্ত তাঁর অনুগামীরা মিলে ভাইকে খুন করেছে। সিআইডি এই মামলার তদন্ত করতে পারবে না। বরুণ বিশ্বাসের মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই তদন্ত হোক। এটা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন।” এমনকি রেশন দুর্নীতি মামলায় জ্যোতিপ্রিয়র গ্রেফতারিতে নতুন করে বরুণ বিশ্বাসের মামলা প্রাণ পেতে পারে, মনে করছে নিহতের পরিবার।

বরুণ বিশ্বাস ছিলেন উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার সুটিয়া অঞ্চলের অধিবাসী এক বাঙালি স্কুলশিক্ষক ও সমাজকর্মী। ২০০০ সালে সুটিয়া অঞ্চলে অপরাধমূলক কাজকর্ম ও গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে গঠিত সুটিয়া গণধর্ষণ প্রতিবাদ মঞ্চের তিনি ছিলেন সহ-প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৯৮ সালে তিনি কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনে (মেন) স্কুলশিক্ষক হিসেবে কাজে যোগ দেন। মৃত্যুর সময় পর্যন্ত তিনি সেখানেই শিক্ষকতা করেছিলেন। ২০১২ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যেবেলা কলকাতা থেকে ফেরার পথে গোবরডাঙা রেল স্টেশনের বাইরে বরুণ বিশ্বাসকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
জ্যোতিপ্রিয়র গ্রেফতারিতে প্রাণ পেতে পারে বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলা! ধৃত মন্ত্রীর ফাঁসি চাইছে মৃতের পরিবার




