বেআইনি নির্মাণ ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত প্রাণ কেড়ে নিল এক অশীতিপর বৃদ্ধের। উত্তর ২৪ পরগনার উত্তর ব্যারাকপুরে স্থানীয় এক তৃণমূল কাউন্সিলরের লাথিতে বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন অভিযুক্ত কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ঘটনা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, উত্তর ব্যারাকপুরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের মণিরামপুর এলাকায় একটি বেআইনি নির্মাণকে কেন্দ্র করেই অশান্তির সূত্রপাত। দীর্ঘ দিন ধরে ওই নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। শনিবার পরিস্থিতি চরমে পৌঁছয়। অভিযোগ, সেই সময় ঘটনাস্থলে হাজির হন স্থানীয় কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। প্রতিবাদী যুবক হেমন্ত অধিকারীকে তিনি মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরিবারের বক্তব্য, ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন ৮১ বছরের তুলসী অধিকারী। তখনই কাউন্সিলর তাঁকে লাথি মারেন বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় রাস্তায় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন তুলসী। তড়িঘড়ি তাঁকে ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতাল-এ নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
শনিবার পর্যন্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন অভিযুক্ত কাউন্সিলর ও দল। তবে রবিবার মৃতের পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তে নামে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে গ্রেফতার করা হয়। বিকেলেই দলীয় সিদ্ধান্তে তাঁকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করে তৃণমূল।
ঘটনার নিন্দা করেছেন ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক। তিনি বলেন, “স্থানীয় কাউন্সিলর কেন ব্যক্তিগত ভাবে জড়িয়ে পড়লেন, তা বোধগম্য নয়। দল কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইন আইনের পথেই চলবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকাবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, সংগ্রহ করা হয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করা চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তুলসী অধিকারী আগেও বারবার কাউন্সিলরের কাছে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক মদতেই সেই নির্মাণ চলছিল—এই ক্ষোভ থেকেই শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়।



