মুম্বইয়ে গিয়ে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির সঙ্গে বৈঠক করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মুম্বইয়ের অ্যান্টিলিয়ায় প্রায় এক ঘণ্টার এই বৈঠকে বাংলায় নতুন বিনিয়োগ, রিলায়েন্সের ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকের পর রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগ ঘিরে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ টানতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সক্রিয় রাজ্য সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় সেপ্টেম্বরের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (Reliance Industries)-এর তরফে বাংলায় বিনিয়োগের আগ্রহ রয়েছে। মুম্বই সফরে মুকেশ আম্বানির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনার কথাও তখন প্রকাশ্যে এসেছিল।
সোমবার সেই বৈঠকই হল। রিলায়েন্স গোষ্ঠীর এক মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যে বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং শিল্পের সম্প্রসারণের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়ে নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে। বৈঠকে বাংলায় নতুন প্রকল্প এবং রিলায়েন্সের বর্তমান ব্যবসায়িক পরিধি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও মঙ্গলবার তাঁর সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে বৈঠকের কথা জানিয়েছেন। মুম্বইয়ে আম্বানি পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি গণেশপুজোয় অংশ নেওয়া এবং তাঁদের হাতে একটি কালীমূর্তি তুলে দেওয়ার কথাও তিনি জানান। একই পোস্টে বাংলার শিল্প, কর্মসংস্থান এবং রাজ্যের যুবসমাজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
বিনিয়োগের পাশাপাশি রিলায়েন্সের আরও ব্যবসা বাংলায় ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টিও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, রিলায়েন্স গোষ্ঠী বাংলায় বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। ফলে সোমবারের বৈঠককে সেই আগ্রহকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দেওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট প্রকল্প, বিনিয়োগের অঙ্ক বা সময়সীমা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
এই বৈঠকের আর একটি আলোচিত দিক ‘Vantara’। অনন্ত আম্বানির উদ্যোগে গড়ে ওঠা Vantara মূলত বন্যপ্রাণী উদ্ধার, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সংরক্ষণকেন্দ্রিক একটি বৃহৎ প্রকল্প। রিলায়েন্সের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জামনগরে এই প্রকল্পের বিস্তৃত পরিকাঠামো রয়েছে এবং সেখানে বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গেও Vantara-র মতো কোনও উদ্যোগ বা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে রাজ্যে নতুন শাখা তৈরির বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা বা নির্দিষ্ট প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আপাতত বিষয়টি সম্ভাবনা ও আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।
শিল্পের পাশাপাশি কর্মসংস্থানও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলার যুবসমাজের দক্ষতা এবং মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলির জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। রিলায়েন্সের মতো বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী নতুন বিনিয়োগ করলে তার সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
এই মুহূর্তে বাংলায় একাধিক বড় শিল্প প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন সংস্থার আলোচনা চলছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, দুর্গাপুজোর আগে ৩৩টি শিল্প প্রকল্পের জন্য জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সময়ে রিলায়েন্স, আদানি, এলঅ্যান্ডটি-সহ একাধিক বড় সংস্থাকে ঘিরে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে সরকারি স্তরে তৎপরতা চলছে।
তাই মুম্বইয়ের অ্যান্টিলিয়ায় শুভেন্দু-আম্বানি বৈঠকের তাৎপর্য এখন মূলত পরবর্তী পদক্ষেপের উপর নির্ভর করছে। রিলায়েন্সের তরফে বাংলায় নতুন বিনিয়োগ বা ব্যবসা সম্প্রসারণ নিয়ে নির্দিষ্ট প্রকল্প ঘোষণা হলে তার পরেই বৈঠকের ফলাফল আরও স্পষ্ট হবে। আপাতত শিল্প বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সম্ভাব্য Vantara উদ্যোগ—এই তিনটি বিষয়েই নজর রয়েছে রাজ্যবাসীর।



