বাংলাদেশের অশান্তির নেপথ্যে কি পাকিস্তান? জামায়াতে ইসলামি ও সেনা প্রসঙ্গে বীণা সিক্রির তীব্র অভিযোগ

ওসমান হাদির মৃত্যুর পর সহিংসতায় উত্তাল বাংলাদেশ। প্রাক্তন কূটনীতিক বীণা সিক্রির দাবি, পাকিস্তানের প্রভাবেই জামায়াতে ইসলামির মাধ্যমে অস্থিরতা বাড়ানো হচ্ছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ওসমান হাদির মৃত্যুর পর বাংলাদেশে ফের অশান্তির আবহ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছায়ায় বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকায় ‘প্রথম আলো’ ও ‘দ্য ডেলি স্টার’-এর অফিসে অগ্নিসংযোগ এই উত্তেজনাকে আরও সামনে এনেছে। এই পরিস্থিতির নেপথ্যে পাকিস্তানের ভূমিকা রয়েছে বলে প্রকাশ্যে অভিযোগ করলেন ভারতের প্রাক্তন কূটনীতিক বীণা সিক্রি।

সংবাদসংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বীণা সিক্রি বলেন, “বাংলাদেশে যে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে, তার পিছনে সুপরিকল্পিত ছক রয়েছে। জামায়াতে ইসলামি এখন পাকিস্তানের নির্দেশেই কাজ করছে।” তাঁর দাবি, এই সংগঠনটি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে কার্যত সেতুবন্ধনের ভূমিকা নিচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন বীণা। তাঁর বক্তব্য, “বাংলাদেশে প্রকাশ্য ভারত-বিরোধী কার্যকলাপ চলছে। কিন্তু ইউনূস সরকার কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না।” এই নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলেই মত তাঁর।

ছাত্র আন্দোলনের জেরে গত বছরের ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং ভারতে আশ্রয় নেন। এরপরই দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ এক গভীর রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

বীণা সিক্রির অভিযোগ, এই সরকার পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় বিদেশি শক্তির প্রভাব রয়েছে। তাঁর কথায়, “পশ্চিমের কিছু শক্তি এই পরিবর্তনকে সমর্থন করছে। কিন্তু বাস্তবে এর কার্যকর রূপায়ণ হচ্ছে পাকিস্তানের হাত ধরে।” তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামির মাধ্যমে পাকিস্তান বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর উপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।

প্রাক্তন কূটনীতিকের আরও অভিযোগ, “জামায়াতে ইসলামি পরিকল্পিত ভাবে সেনাবাহিনীর মধ্যে নিজেদের অনুগত অফিসার বসানোর চেষ্টা করছে, যাতে ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায়।” তাঁর মতে, এই সব কর্মকাণ্ড আসন্ন নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

বীণার দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামি মনে করছে তারা ভোটের ফায়দা তুলতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে তাদের জনসমর্থন সীমিত। সেই কারণেই উত্তেজনা তৈরি করে রাজনৈতিক জমি শক্ত করতে চাইছে তারা।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচনে মূল লড়াই হবে বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামির মধ্যে। পাশাপাশি, শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া নবগঠিত ন্যাশনাল সিটিজ়েনস পার্টি (এনসিপি)ও ভোটের ময়দানে নামছে। এই ত্রিমুখী প্রতিযোগিতার মধ্যেই বাংলাদেশে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর