ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসা দেওয়া সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিল বাংলাদেশ। বুধবার থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে। মূলত নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণেই ঢাকা এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলের দাবি।
এর ফলে আগামী এক-দু’মাসে ভারতীয় পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশে ভ্রমণের কোনও সুযোগ থাকছে না বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও কর্মসূত্রে বা ব্যবসায়িক কারণে বাংলাদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভিসা পরিষেবা এখনও বহাল থাকবে।


এর আগেই দিল্লি-র বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আগরতলা-র উপদূতাবাস থেকে পর্যটক ভিসা দেওয়া বন্ধ করা হয়েছিল। শুধু কলকাতা-র বাংলাদেশ উপদূতাবাসে সীমিত আকারে এই পরিষেবা চালু ছিল। বুধবার থেকে সেটিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, আপাতত গোটা ভারতেই বাংলাদেশ ভ্রমণের পর্যটক ভিসা মিলবে না।
এ বিষয়ে কলকাতার উপদূতাবাস বা দিল্লির দূতাবাসের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তবে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, এমপ্লয়মেন্ট ভিসা, বিজনেস ভিসা এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জন্য ভিসা দেওয়া আগের মতোই চলবে। কারণ, এই ভিসাগুলি বহুস্তরীয় যাচাইয়ের মাধ্যমে মঞ্জুর হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাজ, অবস্থান ও গতিবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য কর্তৃপক্ষের কাছে থাকে।
পর্যটক ভিসার ক্ষেত্রে সেই মাত্রার নজরদারি সম্ভব নয় বলেই নিরাপত্তা ঝুঁকি বেশি—এমনটাই ঢাকার মূল্যায়ন। যদিও বিশেষ ও মানবিক কারণে কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের ভিসা দেওয়া হতে পারে, তবে তা সম্পূর্ণভাবে দূতাবাস বা উপদূতাবাসের বিবেচনার উপর নির্ভর করবে।


পটভূমিতে রয়েছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা। ২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন অংশে অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি, কিছু গোষ্ঠীর ভারতবিরোধী প্রচারও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এর মধ্যেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন আসন্ন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই নির্বাচনপর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভারতীয়দের পর্যটক ভিসা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকে ‘আপাতত’ বলে ব্যাখ্যা করছেন কূটনৈতিক সূত্র।
তবে বাস্তবে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকের আগে এই ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলেই মনে করা হচ্ছে।







