পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান কেনার পথে বাংলাদেশ? ‘জাতীয় নিরাপত্তায় আঁচ লাগলে মেনে নেওয়া হবে না’—কড়া বার্তা দিল্লির

পাকিস্তানের কাছ থেকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ ঘিরে উদ্বেগ নয়াদিল্লির। জাতীয় নিরাপত্তায় প্রভাব পড়লে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা ভারতের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত সমীকরণে নতুন অস্বস্তি। পাকিস্তানের কাছ থেকে আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ ঘিরে নড়েচড়ে বসল নয়াদিল্লি। ইসলামাবাদ–ঢাকা প্রতিরক্ষা ঘনিষ্ঠতার এই সম্ভাব্য অধ্যায়ের দিকে কড়া নজর রাখার বার্তা দিয়ে ভারত স্পষ্ট করে দিল—জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে কোনওভাবেই তা মেনে নেওয়া হবে না।

সম্প্রতি Pakistan সফরে গিয়েছিলেন Bangladesh Air Force-এর প্রধান Hasan Mahmud Khan। পাকিস্তানি সেনার মিডিয়া শাখা ISPR-এর বিবৃতি অনুযায়ী, এই সফরে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। বৈঠক হয় পাকিস্তানের এয়ার চিফ মার্শাল Zaheer Ahmed Babar-এর সঙ্গে। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল পাকিস্তানের তৈরি যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা।

পাকিস্তানের দাবি, বাংলাদেশ আগ্রহ দেখিয়েছে JF-17 Thunder কেনার বিষয়ে। চিন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই ৪.৫ প্রজন্মের ফাইটার জেট আধুনিক এভিওনিক্সে সজ্জিত এবং দূরপাল্লার অস্ত্র বহনে সক্ষম। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে, শিগগিরই এই যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে বলেই ইঙ্গিত।

এই প্রেক্ষিতেই নয়াদিল্লির প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শুক্রবার সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র Randhir Jaiswal বলেন, “গোটা পরিস্থিতির দিকে আমরা খুব কাছ থেকে নজর রাখছি। এর সঙ্গে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট—এই ধরনের সামরিক লেনদেন আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভারসাম্য নষ্ট করলে ভারত নিশ্চুপ থাকবে না।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আধুনিক ফাইটার জেট ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ এখন বিকল্প পথ খুঁজছে। সেই লক্ষ্যেই সাম্প্রতিক কালে India-র সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে Bangladesh পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করছে। তবে এই সমীকরণ বদল আঞ্চলিক কৌশলগত স্থিতাবস্থায় কতটা প্রভাব ফেলবে, সে দিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

ভারতের অবস্থান পরিষ্কার—প্রতিবেশী দেশের প্রতিরক্ষা সিদ্ধান্ত সার্বভৌম বিষয় হলেও, তাতে যদি জাতীয় নিরাপত্তা বা আঞ্চলিক স্থিতি বিঘ্নিত হয়, তবে দিল্লি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত