ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই বাংলাদেশে ফের উত্তেজনা। সোমবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র নেতা মোতালেব শিকদারের উপর গুলিচালনার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে আসায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে রাজনৈতিক যোগের কোনও প্রমাণ মেলেনি বলেই জানিয়েছে পুলিশ।
বাংলাদেশ পুলিশ সূত্রে খবর, শুরুতে মোতালেব দাবি করেছিলেন যে রাস্তায় মোটরবাইকে আসা দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। কিন্তু তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘটনাটি আদতে একটি বাড়ির ভেতরেই ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজ ও ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে পুলিশ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ‘মুক্তা হাউস’ নামে একটি বাড়িতে ঘটনাস্থল শনাক্ত করা হয়েছে। সেখানে একাধিক জায়গায় রক্তের দাগ পাওয়া গিয়েছে। ঘর তল্লাশি করে উদ্ধার হয়েছে বিদেশি মদের বোতল, ইয়াবা সেবনের সামগ্রী এবং একটি গুলির খোসা। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, বাড়ির ভিতরে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যেকার অন্তর্কলহ থেকেই গুলি চালনার ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে ভাড়াটে হিসেবে থাকতেন এক মহিলা। তিনি নিজেকে এনজিওকর্মী বলে পরিচয় দিতেন। বাড়ির মালকিন জানিয়েছেন, সেখানে নিয়মিত বিভিন্ন লোকজনের যাতায়াত ছিল। ঘটনার আগের রাতেও দু’জন ব্যক্তিকে ওই বাড়িতে আসতে দেখা যায় বলে দাবি।
এদিকে গুলিচালনার ঘটনার পর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে সাতক্ষীরা সীমান্ত ও চুয়াডাঙা সীমান্ত এলাকায়। তবে পুলিশ স্পষ্ট করেছে, এই মুহূর্তে ঘটনার সঙ্গে সীমান্তপারের কোনও যোগ পাওয়া যায়নি।
মোতালেব শিকদার গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। তাঁকে কারা হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং নারী-সম্পর্কিত কোনও বিরোধ ছিল কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে।
হাদির হত্যার পর এমন ঘটনায় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফের প্রশ্নের মুখে। তবে প্রশাসনের দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ্যে আনা হবে।



