সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে দিল্লির উদ্বেগের পরই ঢাকার রিপোর্ট: এক বছরে ৬৪৫টি ঘটনা, কতটা সাম্প্রদায়িক জানাল ইউনূস সরকার

দিল্লির উদ্বেগের পরই সংখ্যালঘু অপরাধের পরিসংখ্যান প্রকাশ ঢাকার। ২০২৫ সালে ৬৪৫টি ঘটনার মধ্যে মাত্র ৭১টি সাম্প্রদায়িক বলে দাবি ইউনূস সরকারের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লির কূটনৈতিক উদ্বেগ প্রকাশের মাত্র দশ দিনের মাথায় সংখ্যালঘু নির্যাতন সংক্রান্ত বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করল ঢাকা। বাংলাদেশে এক বছরে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঠিক কতগুলি অপরাধ ঘটেছে, তার কতটা সাম্প্রদায়িক আর কতটা সাধারণ অপরাধ—এই প্রশ্নে প্রথমবার বিস্তৃত সরকারি তথ্য সামনে আনল অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচন-পূর্ব আবহে প্রকাশিত এই রিপোর্ট ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আলোচনা।

সোমবার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা Muhammad Yunus-এর প্রেস উইং এক বিবৃতিতে জানায়, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের জড়িয়ে মোট ৬৪৫টি অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে সরকারের দাবি, এর অধিকাংশই ধর্ম বা জাতিগত বিদ্বেষ থেকে উদ্ভূত নয়, বরং সাধারণ অপরাধমূলক ঘটনা।

ঢাকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর ২০২৫—এই সময়ের মধ্যে নথিভুক্ত ৬৪৫টি ঘটনার মধ্যে মাত্র ৭১টি ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ৭১টি ঘটনার মধ্যে ৫০টিতে নিয়মিত মামলা দায়ের হয়েছে এবং সমসংখ্যক গ্রেফতারিও হয়েছে। বাকি ২১টি ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

সরকারি রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, সংখ্যালঘুদের জড়িয়ে থাকা বাকি ৫৭৪টি ঘটনার সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের কোনও যোগ নেই। এই ঘটনাগুলির নেপথ্যে রয়েছে পারিবারিক বিবাদ, সামাজিক সংঘর্ষ, জমি সংক্রান্ত বিরোধ, চুরি, ধর্ষণ কিংবা অন্যান্য অপরাধ। এই সব ঘটনায় মোট ৩৯০টি মামলা রুজু হয়েছে, ১৫৪টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে এবং গ্রেফতার করা হয়েছে ৪৯৮ জনকে। এ ছাড়াও ৩০টি ঘটনায় অতিরিক্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।

ইউনূস সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে,
“প্রতিটি অপরাধই উদ্বেগের বিষয়। তবে পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেখাচ্ছে যে, অধিকাংশ ঘটনাই অসাম্প্রদায়িক এবং সাধারণ অপরাধমূলক। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সিংহভাগ অপরাধ সংঘটিত হয়নি।”

এই রিপোর্টের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ। গত ৯ জানুয়ারি ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র Randhir Jaiswal প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার একটি “অস্বস্তিকর প্যাটার্ন” লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন। সেই মন্তব্যের পরই ঢাকার তরফে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হল, যা কূটনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

২০২২ সালের জনগণনা অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৭.৯৫ শতাংশ হিন্দু, ০.৬১ শতাংশ বৌদ্ধ এবং ০.১২ শতাংশ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। ২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ বাড়ছে বলে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংগঠন দাবি করে আসছে।

এর মধ্যেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন। তার ঠিক আগে সংখ্যালঘু সংক্রান্ত এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে ইউনূস সরকার যে আন্তর্জাতিক মহলকে বার্তা দিতে চাইছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত