কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে বাংলাদেশে আন্দোলন চলছে। চলতি সপ্তাহের সোমবার রাত থেকেই এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বেনজির হিংসা ছড়িয়েছে ঢাকা-সহ গোটা বাংলাদেশ জুড়ে। মঙ্গলবার, আওয়ামি লিগের ছাত্র সংগঠন এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ গিয়েছিল ৬ আন্দোলনকারীর। হিংসা নিয়ন্ত্রণে বুধবার থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তবে বৃহস্পতিবারও অর্থাৎ ১৮ জুলাই হিংসা নিয়ন্ত্রণে আসা তো দূরের কথা, তার আঁচ যেন আরও বেড়ে গেল।

এদিন ঢাকায় হাজার হাজার শিক্ষার্থী লাঠি ও ঢিল নিয়ে সশস্ত্র পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। যার জেরে বাংলাদেশে এদিন অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, মৃতদের অধিকাংশই পড়ুয়া। এক সাংবাদিকও রয়েছেন মৃতের তালিকায়। দেশের প্রশাসন সূত্রে খবর, কোটা বিরোধী আন্দোলনে এখনও পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সংবাদসংস্থা এএফপির মতে সংখ্যাটা ৩২।

মোবাইলে ইন্টারনেট বন্ধের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকে একটি সংস্থার মূল কার্যালয়ের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছে আন্দোলনকারীদের একাংশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে গুলি চালানোর অভিযোগও উঠেছে পুলিশের দিকে। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সংঘাতে জড়াচ্ছে শাসক দল আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মীরাও। উত্তাল বাংলাদেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আহতের সংখ্যাও।
সরকারিভাবে আহতের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি বাংলাদেশের তরফে। তবে সূত্রের খবর, আহতের সংখ্যা শতাধিক। এদিকে বাংলাদেশ সরকার আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনায় বসার বার্তা দিলেও তা মানেননি তাঁরা।
উত্তাল বাংলাদেশ, আলোচনার প্রস্তাব খারিজ, প্রাণ গেল ৩২ জনের

এই ছাত্র আন্দোলনের সহ-সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহ সালেহিন অয়নের হুঁশিয়ারি—‘‘রক্তের সঙ্গে বেইমানি করে কখনও কাউকে আলোচনায় বসতে দেব না।’’ প্রসঙ্গত, হাসিনা সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠকে সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনকারীদের আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, নীতিগত বিষয়ে আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন রয়েছে সরকারের।



