বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বুধবার রাতে সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল। পুলিশের লাঠি এবং ছররা গুলিতে অন্তত ৬ জন আন্দোলনকারী গুরুতর জখম হয়েছেন বলে সে দেশের সংবাদমাধ্যম থেকে খবর পাওয়া গিয়াছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ ও ক্ষমতাসীন আওয়ামি লিগের ছাত্র সংগঠন, ছাত্রলীগের হামলা ও গুলিতে মঙ্গলবারই প্রাণ গিয়েছে ৬ আন্দোলনরত ছাত্রর প্রাণ গিয়েছে।

বুধবার থেকে বন্ধ করে দিতে হয়েছে বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই অবস্থায় এদিন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে বাংলাদেশ জুড়ে যে সংকট চলছে, তার আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের সুযোগ রয়েছে”। তিনি আরও বলেন, “উচ্চ আদালত থেকে ন্যায়বিচারই পাবে ছাত্রসমাজ। আদালতের রায়ে শিক্ষার্থীরা হতাশ হবে না”।

কোটা নিয়ে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন শেখ হাসিনা। এর পরেও আজ রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সকাল সাড়ে ১০টার পরে অবস্থান নেয় কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বেলা পৌনে ১১টার দিকে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়।
পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই সবের কারণে ওই এলাকায় এখন যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আন্দোলনরত ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করতে বাংলাদেশ পুলিশ মেরুল বাড্ডা এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বেলা ১১টার দিকে পুলিশ কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে যায়। বাইরে আন্দোলনকারীরা অবস্থান বিক্ষোভ করছে।
হাসিনার আশ্বাসের পরেও উতপ্ত ঢাকা, চলছে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ

সেখানে বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুরের খবর এসেছে। ওপর দিকে মিরপুরের ১০ নম্বর গোলচত্বরে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। রাস্তায় টহল দিচ্ছে সাঁজোয়া গাড়ি। এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ থাকায় সেখানকার বাজারঘাট ও দোকান বন্ধ রয়েছে। অন্য দিনের তুলনায় যানবাহন ও লোকজনের চলাচল খুবই কম। সব মিলিয়ে এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা বাংলাদেশ।



