ভোটের মুখে বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। অশান্ত পরিস্থিতি, পাল্টা আন্দোলন এবং দলগত সমীকরণের মাঝেই সামনে এল এক গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা বিশ্লেষণ। সিএনএন-নিউজ১৮-এর হাতে আসা একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ঢাকায় যদি Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি) সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন করে, তা হলে Jamaat-e-Islami Bangladesh দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় রাজনীতিতে প্রান্তিক হয়ে পড়তে পারে।
রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান Tarique Rahman দেশে সক্রিয়ভাবে ফিরলে দলের ভোটব্যাঙ্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, সে ক্ষেত্রে জাতীয় ভোটের প্রায় ৪২ থেকে ৪৫ শতাংশ বিএনপির দখলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই সম্ভাব্য উত্থানই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জামাতের জন্য। দলটির ঘনিষ্ঠ সূত্রের বক্তব্য, জামাতের মূল সমর্থন বর্তমানে ৮–১০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা প্রধানত সিলেট ও উত্তর রংপুর অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত। জাতীয় স্তরে এই ভোটের পরিসর বিএনপির সম্ভাব্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার সামনে খুবই দুর্বল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

জামাতের অভ্যন্তরীণ মহলে এই পরিস্থিতিকে সরাসরি “অস্তিত্বের সংকট” হিসেবে দেখা হচ্ছে। আশঙ্কা, বিএনপি একক শক্তি হিসেবে উঠে এলে জামাত আর ‘কিংমেকার’-এর ভূমিকায় থাকতে পারবে না। অতীতে জোট রাজনীতিতে প্রভাব রাখলেও ভবিষ্যতে দলটি একটি ক্ষুদ্র রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে—এমন মূল্যায়ন উঠে এসেছে রিপোর্টে।


আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভোটব্যাঙ্কের সংঘাত। ঐতিহাসিকভাবে জামাত, তারেক রহমানকে স্বাভাবিক মিত্রের চেয়ে বরং একই রক্ষণশীল ও ইসলামপন্থী ভোটার গোষ্ঠীর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই দেখেছে। এখন বিএনপির ছাতার নিচে এই ভোটারদের একত্রিত হওয়ার সম্ভাবনা জামাতের প্রান্তিকীকরণের ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।
ভোট যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুধু সরকার বদলের প্রশ্ন নয়, বরং কোন দল জাতীয় স্তরে টিকে থাকবে আর কোন দল প্রভাব হারাবে, সেই লড়াইও সামনে এসেছে। তারেক রহমানের ভূমিকা ও বিএনপির সংগঠনী শক্তি ঠিক কোন দিকে যায়, তার উপরই অনেকটাই নির্ভর করবে জামাতের ভবিষ্যৎ।









