বিপ্লবের আড়ালে ক্ষমতার ছক! ভোটের মুখে জামাত-জোটে হাসিনা উৎখাতকারী ‘বিপ্লবী’ ছাত্রনেতারা

ভোটের মুখে জামাতের নেতৃত্বাধীন জোটে এনসিপি ও এলডিপি, ‘বিপ্লবী’ ছাত্ররাজনীতির মুখোশ খুলে গেল বাংলাদেশে

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল ‘বিপ্লব’ আর ‘গণঅভ্যুত্থান’-এর স্লোগানে, ভোটের দোরগোড়ায় এসে তার মুখোশ খুলে গেল। বুড়িগঙ্গায় যেন প্রতীকী সলিল সমাধি হল ছাত্ররাজনীতির তথাকথিত বিপ্লবের। বাংলাদেশে জামাত ইসলামির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটে আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগ দিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজনৈতিক দল— জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে সেই জোটে শামিল হল কর্নেল অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি। ফলে বিএনপি-বিরোধী এই জোটে শরিক দলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দশে।

রবিবার বিকেলে National Press Club–এ সাংবাদিক বৈঠক করে এই ঘোষণা করেন Jamaat-e-Islami বাংলাদেশ–এর আমির শফিকুর রহমান।

নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই চলছিল দর কষাকষি

বাংলাদেশে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই এনসিপি নেতৃত্বের সঙ্গে জামাতের টানাপোড়েন ছিল প্রকাশ্য। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহরা প্রথমে দাবি করেছিলেন, এনসিপি এককভাবেই নির্বাচনে লড়বে। সেই লক্ষ্যেই প্রথম দফায় ১২৫টি আসনে প্রার্থীও ঘোষণা করা হয়।

কিন্তু পরে হঠাৎই ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ গঠনের ঘোষণা আসে। তখনই স্পষ্ট হয়ে যায়, কট্টরপন্থী জামাতের সঙ্গে জোট বাঁধার পথেই হাঁটছে ছাত্রদের দল। শুরু হয় আসন ভাগাভাগি নিয়ে দর কষাকষি। এনসিপির দাবি ছিল ৫০টি আসন, কিন্তু জামাত ৩০টির বেশি ছাড়তে রাজি হয়নি। এই টানাপোড়েনেই অস্বস্তিতে পড়ে যায় ছাত্রদের দল— কারণ যেসব আসনে তারা প্রার্থী ঘোষণা করেছিল, সেখানে প্রচারও শুরু হয়ে গিয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত জামাতের ছাতার তলায়

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রবিবার জামাতের আমির স্পষ্ট জানিয়ে দেন— গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের রাজনৈতিক দল এনসিপি এবং এলডিপি জামাতের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছে। শফিকুর রহমান আরও জানান, রাতের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করবে এনসিপি।

নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী জামাত আমিরের বক্তব্য, “এটা একটি শক্তিশালী জোট। আমরা ৩০০ আসনে প্রার্থী ঠিক করেছি। শেষ পর্যায়ে দুই দল যোগ দেওয়ায় কিছুটা জটিলতা হয়েছে। শেষ মুহূর্তে আরও কিছু দলের আগ্রহ থাকলেও তাদের নেওয়া সম্ভব হয়নি।”

‘বিপ্লবী’ পরিচয় ছেড়ে বাস্তব রাজনীতির আশ্রয়

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শেষ পর্যন্ত আদর্শ নয়, বাস্তব রাজনীতির হিসাবেই জামাতের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে এনসিপি। জুলাই–অগস্টের আন্দোলনের সময় থেকেই তাদের ‘জামাতের বি–টিম’ বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছিল।
হাসিনা বিরোধিতা, ভারত বিরোধিতা এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন তোলার রাজনীতির কারণে এনসিপি ক্রমশই ইসলামপন্থী দল হিসেবেই পরিচিত হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ভোটের অঙ্কে জামাতের মতো সংগঠিত ও বিশ্বস্ত শক্তি তারা নয়— এই বাস্তবতা বুঝেই শেষ পর্যন্ত রাখঢাক না রেখে কট্টরপন্থী জোটে আশ্রয় নিল ছাত্রদের দল।

হাসিনা উৎখাতের নেপথ্যে কারা?

এই রাজনৈতিক বাঁক কার্যত সেই অভিযোগকেই জোরালো করল— ‘বিপ্লবের’ আড়ালে শেখ হাসিনা–কে উৎখাতের ছক কষেছিল জামাত। ছাত্ররা ছিল সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রকল্পের মুখ। ভোটমুখী বাংলাদেশে সেই মুখোশ খুলে যাওয়াই এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বার্তা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত