এবার বাংলাদেশের ঘুম ওড়াতে তৈরি সেনা, ভারতীয় বাহিনীর ‘রেডি মোডে’ বড় পদক্ষেপ

পাকিস্তানের পর এবার বাংলাদেশের দিকেও নজর। রাফাল থেকে সুখোই—উত্তর-পূর্ব সীমান্তে শুরু হচ্ছে ভারতীয় সেনা ও বায়ুসেনার যুগপৎ মহড়া, বার্তা স্পষ্ট দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের উদ্দেশে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশ সীমান্তে তৈরি হচ্ছে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি। ভারতের সশস্ত্র বাহিনী ও বায়ুসেনা এবার একযোগে শুরু করতে চলেছে এক বিশাল সামরিক মহড়া (Bangladesh Border Military Exercise), যা তিন ধাপে চলবে নভেম্বর থেকে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত। সূত্রের খবর, মায়ানমার, ভুটান ও বাংলাদেশের সীমান্ত বরাবর একই সঙ্গে চলবে এই মহড়া, যার উদ্দেশ্য সীমান্ত প্রতিরক্ষা ও প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা আরও জোরদার করা।

গুজরাটের স্যার ক্রিকে (Sir Creek) ‘ত্রিশূল মহড়া (Trishul Exercise)’ দেখে ইতিমধ্যেই অস্বস্তিতে পাকিস্তান। এবার ভারতীয় সেনা যখন উত্তর-পূর্ব সীমান্তে নতুন পদক্ষেপ নিতে চলেছে, তখন বাংলাদেশ প্রশাসনের প্রতিক্রিয়ার দিকেও কূটনৈতিক মহল নজর রাখছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আধিকারিক জানান, “এই মহড়া মূলত সীমান্ত প্রতিরক্ষা শক্তি যাচাই ও প্রতিক্রিয়াশীল সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য। বায়ুসেনার আধুনিক যুদ্ধবিমান রাফাল (Rafale) ও সুখোই (Sukhoi), পাশাপাশি স্থলবাহিনীর অত্যাধুনিক ট্যাঙ্ক ও আর্টিলারি এতে অংশ নেবে।”

তিন ধাপে মহড়া — শক্তির এক বিশাল প্রদর্শন
প্রথম ধাপের মহড়া হবে ৬ ও ২০ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ৪ ও ১৮ ডিসেম্বর, এবং শেষ ধাপ ২০২৬ সালের ১ ও ১৫ জানুয়ারি। প্রতিটি ধাপে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন এয়ারবেস ও ফ্রন্টলাইন স্কোয়াড্রন অংশ নেবে। ইতিমধ্যেই যুদ্ধবিমানের উড্ডয়নের জন্য নোটাম (NOTAM) জারি করা হয়েছে।

এই বিশাল মহড়া শুধু সামরিক শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং একটি কূটনৈতিক বার্তাও বহন করছে। পাকিস্তান সীমান্তে অপারেশন ত্রিশূল-এর পর এবার বাংলাদেশ সীমান্তজুড়ে কার্যত সেনা শক্তি দেখাতে চলেছে ভারত।

আইএসআই ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে
সূত্রের দাবি, পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI) সম্প্রতি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কার্যক্রম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভারতীয় গোয়েন্দা মহলের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে সীমান্তে নাশকতা ঘটাতে পারে এই সংস্থা। ঠিক সেই কারণেই ভারত এখন সর্বোচ্চ সতর্ক।

ভারতীয় সেনার এই পদক্ষেপকে তাই ‘পূর্বপ্রস্তুতি’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক দেবাশিস ভট্টাচার্যের মতে, “ভারতের এই মহড়া শুধু সামরিক নয়, এটি একটি কৌশলগত প্রতিরোধ। প্রতিবেশী দেশগুলিকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, যে কোনও আগ্রাসন বা উসকানির জবাব কঠিনভাবে দেওয়া হবে।”

বাংলাদেশকেও সরাসরি বার্তা দিল ভারত
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই মহড়া কার্যত বাংলাদেশের ইউনূস প্রশাসনকে একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বেড়ে ওঠা অনুপ্রবেশ ও সন্ত্রাস কার্যকলাপের প্রেক্ষিতে ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছে—বাংলাদেশ বা পাকিস্তান, যে দেশই সীমান্ত উত্তপ্ত করবে, তার জবাব মিলবে দ্বিগুণ শক্তিতে।

এই মহড়া যে শুধু সামরিক অনুশীলন নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ভারতের শক্ত অবস্থানের প্রতীক, তা বিশেষজ্ঞরা একবাক্যে মেনে নিচ্ছেন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন