মাতৃভাষা দিবসের প্রাক্কালে রাজ্যের সব স্কুলে ও সমস্ত সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বাংলা বাধ্যতামূলক করার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিল বাংলা পক্ষ (Bangla Pokkho)। চিঠি দিয়েছেন সংগঠনের সম্পাদক কৌশিক মাইতি। বাংলা পক্ষর (Bangla Pokkho) এই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন রাজ্যের বিশিষ্ট ভাষাবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের স্বনামধন্য ব্যক্তিরা।
আরও পড়ুন: ভোটের আগে অধিবেশনের সমাপ্তি বক্তৃতায় ২০২৮ সালের ‘ভারত’ দেখালেন মোদী
চিঠিতে বাংলা পক্ষ (Bangla Pokkho) লিখেছে, “বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য রাজ্য সরকার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তাকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু বাংলা ভাষা ভারতে বঞ্চিত। এমনকি বাংলার মাটিতেও বাংলা ভাষার আর সেই গুরুত্ব নেই। রাজ্যে ৮৬ শতাংশ মানুষ বাঙালি হলেও নতুন প্রজন্ম বাংলা ভাষা শিখছে না।” কারণ হিসেবে বাংলা পক্ষ (Bangla Pokkho) জানিয়েছে, “রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে এখন আর বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক নেই। তাছাড়া সরকারি চাকরির পরীক্ষাতেও বাংলা বাধ্যতামূলক নয়। যে কারণে বাংলা ভাষার প্রয়োগ অনেকটাই কমেছে সাম্প্রতিক সময়।”

মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বাংলা পক্ষ (Bangla Pokkho) যে দুটি দাবি জানিয়েছে, তার মধ্যে প্রথমটি হলো, দশম শ্রেণী পর্যন্ত যে কোন বোর্ডের যে কোনো মাধ্যমের স্কুলে বাংলা ভাষাকে বাধ্যতামূলক করা হোক। দ্বিতীয়ত, সমস্ত রাজ্য সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বাংলা ভাষার লিখিত পেপার বাধ্যতামূলক করা হোক।

সামনেই ২১ ফেব্রুয়ারি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। তারই প্রাক্কালে এই বিষয়টির উপরে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে চায় বাংলা পক্ষ (Bangla Pokkho)। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা ভাষার স্বার্থে লড়াই করে আসছে বাংলা পক্ষ। সংগঠনের সম্পাদক কৌশিক মাইতি জানিয়েছেন, “আমরা আশা করি রাজ্যের সরকার আমাদেরই দাবিকে মান্যতা দেবে।”
স্কুলে ও সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক করা হোক, মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিল বাংলা পক্ষ

বাংলা ও বাঙালির স্বার্থে ইতিমধ্যেই এই দুটি দাবিকে সমর্থন জানিয়ে যে সমস্ত বিশিষ্ট, স্বনামধন্য বাঙালি চিঠিতে সই করছেন, তাঁরা হলেন-
১. শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় (সাহিত্যিক), পবিত্র সরকার (শিক্ষাবিদ ও ভাষাবিদ), নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ি (পুরাণবিদ ও ঐতিহাসিক), জহর সরকার (রাজ্য সভার সাংসদ প্রাক্তন আমলা), সব্যসাচী চক্রবর্তী (অভিনেতা), রূপম ইসলাম (সঙ্গীতশিল্পী), কৌশিক গাঙ্গুলি (চলচ্চিত্র পরিচালক), সৃজিত মুখার্জী (চলচ্চিত্র পরিচালক), অরিন্দম শীল (চলচ্চিত্র পরিচালক), সুবোধ সরকার (কবি), রাজা চন্দ্র (চলচ্চিত্র পরিচালক), রানা সরকার (চলচ্চিত্র প্রযোজক), প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য (চলচ্চিত্র পরিচালক), মৃদুল দাসগুপ্ত (কবি), ইমন চক্রবর্তী (সঙ্গীতশিল্পী), জয় সরকার (সঙ্গীত পরিচালক)।
তালিকায় আরও আছেন, শ্রাবন্তী চ্যাটার্জী (অভিনেত্রী), সপ্তক সানাই দাস (সঙ্গীত পরিচালক), শুভঙ্কর ব্যানার্জী (ক্রিয়েটিভ হেড, ডিজনি হটস্টার), কেশব দে (সঙ্গীতশিল্পী), ইন্দ্রদীপ দাসগুপ্ত (সঙ্গীত পরিচালক), জেনি ও দীপায়ন (চলচ্চিত্র পরিচালক জুটি), সুমন গঙ্গোপাধ্যায় (কার্যকরী কমিটি সদস্য, কলকাতা প্রেস ক্লাব ও সর্বভারতীয় সভাপতি জার্নালিস্ট ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া), ইন্দ্রনীল রায় (সাংবাদিক), জয়জিৎ ব্যানার্জী (অভিনেতা), অমর মিত্র (প্রখ্যাত সাহিত্যিক), নবাব ভট্টাচার্য (ফুটবল প্রশাসক), দীপ্যমান গাঙ্গুলী (ভাটনগর পুরষ্কার প্রাপ্ত বিজ্ঞানী), তোশিকুল ওয়ারা (চন্দ্রযান ৩ প্রোজেক্ট, বিজ্ঞানী), মনোজ মুরলী নায়ার (রবীন্দ্র সঙ্গীতশিল্পী), জয় শঙ্কর ভট্টাচার্য (প্রফেসর, আইআইএম ইন্দোর), মন্দাক্রান্তা সেন (কবি), মনোরঞ্জন ব্যাপারী (লেখক)।
অন্যান্যরা হলেন, ড: মহুয়া মুখোপাধ্যায় (প্রাক্তন অধ্যাপিকা, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়), বনানী চক্রবর্তী (নৃত্যশিল্পী), জীবন সাহা (নাট্যকার, নির্দেশক), নটরাজ দাস (নাট্য নির্দেশক), প্রদীপ মুখোপাধ্যায় (রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী), জয়িতা বন্দ্যোপাধ্যায় (রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী), সর্বজিৎ যশ (ইতিহাসবিদ), গৌতম সেনগুপ্ত (অন্তরঙ্গ নাট্যের প্রবক্তা এবং পথিকৃৎ), কৃষ্ণেন্দু দেওয়ানজী (অভিনেতা), অনির্বাণ বসু (সাহিত্যিক), বিবেকানন্দ ত্রিপাঠী (সম্পাদক, মানভূম সংবাদ), সমৃদ্ধ দত্ত (সাংবাদিক), সৌম্য সেনগুপ্ত (চলচ্চিত্র পরিচালক)। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে সমর্থন জানিয়েছেন বিখ্যাত ভাষাবিদ প্রবাল দাসগুপ্ত।



