বেজে গিয়েছে লোকসভা নির্বাচনের দামামা। ইতিমধ্যেই এ রাজ্যে ২০ জনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি। বাকী আরও ২২ আসনে গেরুয়া শিবির কাদের টিকিট দেয় তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এরই মধ্যে কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের পদত্যাগী বিধায়ক তাপস রায়ের যোগদান বুস্টার ডোজ হিসাবে কাজ করেছে বিজেপির অন্দরে। গত লোকসভার মতোই এবার বালুরঘাট থেকে প্রার্থী হয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। আর প্রতিটি নির্বাচনের মতোই শুরু হয়ে গিয়েছে ‘নজরবন্দি’-র জনমত সমীক্ষা।
আরও পড়ুন: কৃষ্ণনগরে মহুয়ার প্রেস্টিজ ফাইট, তৃণমূলকে টেক্কা দিতে বিজেপির ‘তুরুপের তাস’ ঝুলন! #EXCLUSIVE


২০১৯ সালের লোকসভায় তৃণমূলের অর্পিতা ঘোষকে প্রায় ৩৩ হাজার ভোটে হারান সুকান্ত মজুমদার। কিন্তু, এরপর বিধানসভা নির্বাচন ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে সেখানে মুখ থুবড়ে পড়ে বিজেপি। বিধানসভায় বালুরঘাটের ৭টি আসনের মধ্যে চারটিতে জেতে তৃণমূল- ইটাহার, কুশমান্ডি, কুমারগঞ্জ ও হরিরামপুর। বিজেপি পায় ৩টি আসন- বালুরঘাট, তপন ও গঙ্গারামপুর। চারটি আসন মিলিয়ে তৃণমূল এগিয়ে ছিল ১,০৮,৬৭৮ ভোটে। অন্যদিকে, বিজেপি তিনটি আসনে মোট লিড পায় ১৯,৬৭৮। অর্থাৎ, তৃণমূল বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে বিধানসভায় প্রায় ৮৯ হাজার ভোট বেশি পায়।

এবার সামনেই লোকসভা। বালুরঘাটের তৃণমূল প্রার্থী হতে পারেন সম্ভবত, আইপিএস প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই সিদ্ধান্ত কিন্তু তৃণমূলের বিপক্ষেই যেতে পারে! কারণ, প্রসূন বন্দ্যোপাধায়ের বিরুদ্ধে নারীঘটিত কেচ্ছা প্রকাশ্যে এসেছে। অন্যদিকে, সুকান্ত মজুমদারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা রয়েছে। প্রথমত, তিনি ঘরের ছেলে। দ্বিতীয়ত, বালুরঘাটের বা দক্ষিণ দিনাজপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের যে দাবি ছিল, ট্রেনের জন্য, সেই দাবি পূরণ করেছেন সুকান্ত মজুমদার। পাশাপাশি, নিজের সংসদ তহবিলের অর্থে এলাকায় নানান উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নেন প্রতিনিয়ত।



বালুরঘাটে সুকান্তর জয় সময়ের অপেক্ষা, কী উঠে এল নজরবন্দি-র জনমত সমীক্ষায়? #EXCLUSIVE
‘নজরবন্দি’-র জনমত সমীক্ষা বলছে, বালুরঘাটে সুকান্ত মজুমদার এবার ১ লক্ষেরও বেশি ভোটে জিততে পারেন! কারণ, যে ইটাহারে বিধানসভায় তৃণমূল ব্যাপক লিড পায়, তার নেপথ্যে ছিল স্থানীয় নেতা অমল আচার্য্যের ভূমিকা। কিন্তু তিনি এই মুহূর্তে একেবারেই নিষ্ক্রিয়। তাছাড়া, বালুরঘাটের রাজনীতিতে যে পরিবারের সবচেয়ে প্রভাব, সেই মিত্র পরিবার থেকে কেউ প্রার্থী হচ্ছেন না বলেই খবর।

বিল্পব মিত্র বর্তমানে রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী। একুশের বিধানসভায় তিনি জেতেন হরিরামপুর আসন থেকে। তিনি বা তাঁর পরিবারের কেউ বালুরঘাটে প্রার্থী হলে তাও সুকান্ত মজুমদারকে কিছুটা চ্যালেঞ্জ করা যেত। কিন্তু, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করে কার্যত ওয়াকওভার দিয়ে দিল তৃণমূল! ফলে, ইটাহার ও হরিরামপুরে তৃণমূল কিছু ভোট পেলেও মার্জিন কমবে। তৃণমূলের আর এক নেতা সোনা পালের প্রতিও মানুষ ক্ষুব্ধ। বিপ্লব মিত্রের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। কিন্তু এখন তিনি প্রায় একঘরে!
অন্যদিকে, এই দুটি আসন বাদে বাকী ৫ট আসনে লিড পাবেন সুকান্ত মজুমদার। বালুরঘাটে তিনি ৪৫ হাজারেরও বেশি ভোটে লিড পেতে পারেন। অন্যদিকে, তপন-গঙ্গারামপুর আসন থেকে ২৫ হাজারের বেশি ভোত আসতে পারে। কুশমান্ডি, কুমারগঞ্জে ভালো লড়াই হলেও যেহেতু এটা লোকসভা নির্বাচন তাই সুকান্তর পক্ষেই ফলাফল যেতে পারে। সংখ্যালঘু ভোট তৃণমূলের পক্ষেই আসতে পারে।
তৃণমূলের জন্য আরও হতাশার খবর, বালুরঘাটে আরএসপি বা সিপিআই এখনও সক্রিয়। ফলে, ভোট কাটুয়া হিসাবে কাজ করতে পারে বাম দলগুলি। সীমান্ত এলাকায় এনআরসি বা সিএএ-এর একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বিজেপির ক্ষেত্রে। কিন্তু তাও সেভাবে পড়বে না। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা তৃণমূলের একাধিক প্রকল্পের প্রতি মানুষের ভরসা থাকলেও লোকসভায় তার প্রভাব পড়বে না বলেই মনে হয়। কারণ, রাজ্যে দিদি আর কেন্দ্রে মোদী, এই অঙ্কটাই মানুষের বেশ পছন্দের!








