বাগডোগরা-গ্যাংটক হেলিকপ্টার পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হলো। সিকিম ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন এবং স্কাইওয়ান এয়ারওয়েজ লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে রবিবার ১৭ অগস্ট থেকে শুরু হলো এই বহুল প্রত্যাশিত যোগাযোগ ব্যবস্থা। পাহাড়ি পথের জটিলতা কাটিয়ে এখন মাত্র আধ ঘণ্টাতেই বাগডোগরা থেকে গ্যাংটক পৌঁছানো যাবে। যাত্রীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক নতুন যুগের সূচনা।
প্রথম দিন থেকেই যাত্রীরা উচ্ছ্বসিত। আগে যারা গাড়ি বা বাসে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার কষ্টসাধ্য যাত্রা করে গ্যাংটক পৌঁছাতেন, তাঁদের কাছে এই পরিষেবা স্বস্তি এনে দিয়েছে। বাগডোগরা-গ্যাংটক হেলিকপ্টার পরিষেবা তাই পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যাত্রী ও লাগেজ নীতি
এই রুটে এমআই ১৭২ হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, একসঙ্গে ২০ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। প্রত্যেক যাত্রীকে সর্বাধিক ১০ কেজি মালপত্র সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে ভ্রমণকারীরা প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়েই নিশ্চিন্তে সফর করতে পারবেন।
টিকিটের খরচ কত
বাগডোগরা-গ্যাংটক হেলিকপ্টার পরিষেবার জন্য যাত্রীদের টিকিটের খরচ ধার্য হয়েছে ৪৫০০ টাকা। সড়কপথে ভ্রমণের সময় ও পরিশ্রমের তুলনায় এই ভাড়া যাত্রীদের কাছে যথেষ্ট সাশ্রয়ী বলেই মনে করা হচ্ছে। পর্যটকদের জন্যও এই খরচ যুক্তিসঙ্গত, কারণ এর ফলে তাঁদের সময় বাঁচবে এবং ভ্রমণ হবে আরও আরামদায়ক।
বুকিং প্রক্রিয়া
এই হেলিকপ্টার পরিষেবার টিকিট বুক করতে হলে বাগডোগরা বিমানবন্দরের হেলিকপ্টার সার্ভিস অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে ০৩৫৯২-২০৩৯৬০ এবং ৭৩১৮৯০৬৬৭৭। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বুকিং করা যাবে। তাই আগাম পরিকল্পনা করে যাত্রীরা সহজেই তাঁদের আসন সংরক্ষণ করতে পারবেন।
সময়সূচি ও ফ্লাইট শিডিউল
হেলিকপ্টারটি প্রতিদিন সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে গ্যাংটক থেকে বাগডোগরার উদ্দেশে ছাড়বে এবং সকাল ১০টা ১০ মিনিটে পৌঁছবে। ফের সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে বাগডোগরা থেকে উড্ডয়ন করে ১১টা ১৫ মিনিটে গ্যাংটকে নামবে। দুপুরে আবার গ্যাংটক থেকে ১২টা ২৫ মিনিটে ছাড়বে এবং বাগডোগরায় পৌঁছবে দুপুর ১টা নাগাদ। পরে বাগডোগরা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে শেষবারের মতো যাত্রা শুরু করবে।
তবে মনে রাখতে হবে, এই পরিষেবা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে স্থানীয় আবহাওয়ার উপর। পাহাড়ি এলাকায় আবহাওয়া প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়, তাই খারাপ আবহাওয়ার কারণে যাত্রার সময় পরিবর্তিত হতে পারে বা ফ্লাইট বাতিলও হতে পারে।
পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্ত
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাগডোগরা-গ্যাংটক হেলিকপ্টার পরিষেবা চালু হওয়ায় উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের পর্যটন শিল্প নতুন মাত্রা পাবে। প্রতিবছর অসংখ্য দেশি-বিদেশি পর্যটক দার্জিলিং, গ্যাংটক ও উত্তর সিকিমে ভ্রমণে আসেন। তাঁদের জন্য এই দ্রুত ও আরামদায়ক পরিবহণ ব্যবস্থা ভ্রমণকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের জরুরি চিকিৎসা কিংবা কাজের প্রয়োজনে দ্রুত যাতায়াতের সুযোগও তৈরি হবে।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিষেবা যদি জনপ্রিয়তা পায়, তাহলে আগামী দিনে এর সংখ্যা ও রুট আরও বাড়তে পারে। শিলিগুড়ি, কালিম্পং বা এমনকি উত্তর সিকিমের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এই ধরনের হেলিকপ্টার পরিষেবা চালু হতে পারে। এতে পর্যটন ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্র দুইই সমানভাবে লাভবান হবে।
অতএব, বাগডোগরা-গ্যাংটক হেলিকপ্টার পরিষেবা শুধু যাত্রীদের সময় বাঁচাচ্ছে না, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের এক নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থার দরজা খুলে দিচ্ছে। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এটি এখন এক বড় ভরসার নাম।








