নজরবন্দি ব্যুরোঃ এখনের সম্পর্কের যেন কোন স্থায়িত্ব নেই, ভালো না লাগলেই বদলে যায় সঙ্গী। সেইরকমই ‘অনেকে বলেন, মেয়েরা ঘনঘন বয়ফ্রেন্ড বদলায়। বিহারের মুখ্যমন্ত্রীও যেন তেমনই’। বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় নিশানায় নীতীশ কুমার। ‘এরা নারীবিদ্বেষী অসুর’, পাল্টা তোপ তৃণমূল নেতা বাবুল সুপ্রিয়। রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে।
আরও পড়ুনঃ মাত্র তিন জন কেন গ্রেফতার? বাকিদের গতিপ্রকৃতি মাপছে কেন্দ্রীয় সংস্থা


স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার ভাষণে নারীদের সম্মানরক্ষার কথা ভেবেই সেদিকে জোর দিয়েছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী মোদীজি। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা নারীদের অপমান করছি। কিন্তু আমাদের নারীদের অপমান না করার প্রতিজ্ঞা নিতে হবে। নারীরা অপমানিত হন, এমন কোনও কথা না বলার সংকল্প নিতে হবে। নারী গৌরব রাষ্ট্রের স্বপ্নপূরণে অনেক বড় পুঁজি তৈরি হতে চলেছে। এটা আমি দেখতে পাচ্ছি। আর সেকারণেই ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে রয়েছি।’ বিহারের রাজনৈতিক পালাবদলে বিজেপি নেতাকে ‘বয়ফ্রেন্ড’ মন্তব্যে তুঙ্গে উঠেছে বিতর্ক।

স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তিতে তখন আজাদি কা অমৃত মহোৎসবে মাতোয়ারা গোটা দেশ। বিহারে বিজেপি সঙ্গত্যাগ করেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD) এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলির সঙ্গে জোট বেঁধে নতুন সরকার গঠন করেছেন তিনি। প্রথমে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেন, তারপর নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ফের শপথ নেন নীতীশ কুমারই। কেন এমন সিদ্ধান্ত? ক্ষুদ্ধ বিজেপি ৷ তাদের দাবি, বিহারের জনগণের আদেশকে অসম্মান করলেন নীতীশ।

এদিন মধ্যপ্রদেশের ইন্ডোর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘বিহারে সরকার বদলেছে। অনেকে বলেন, মেয়েরা ঘনঘন বয়ফ্রেন্ড বদলান। বিহারের মুখ্যমন্ত্রীও তেমনই। কখন কার হাত ধরবেন বা ছাড়বেন, কেউ জানে না।’ এমনকী, নিজের বক্তব্যে ‘বিদেশি’ শব্দও ব্যবহার করেন তিনি।


‘মেয়েরা ঘন ঘন বয়ফ্রেন্ড বদলায়’, কৈলাসকে ‘অসুর’ বললেন বাবুল

একসময়ের বিজেপি সাংসদ ছিলেন, এখন তৃণমূলের বিধায়ক। কৈলাস বিজয়বর্গীর মন্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়। তিনি বলেন, ‘বাংলার মাটি মা দুর্গার। বাংলা বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, এরা নারীবিদ্বেষী অসুর।’ এর আগে, যখন বাংলার দায়িত্বে ছিলেন, তখন কলকাতার একটি ফ্ল্যাটে এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে কৈলাস বিজয়বর্গীয়-সহ ৩ বিজেপি নেতার। শুধু তাই নয়, সেই ঘটনার পর নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারের লোকেদের খুনের হুমকি দেওয়া হয়! অভিযোগ দায়ের করা হয় সরশুনা ও বোলপুর থানায়।







