নজরবন্দি ব্যুরোঃ গরু পাচার মামলায় গত ১১ অগাস্ট থেকে জেল হেফাজতে রয়েছেন বীরভূম তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু জেলাজুড়ে ক্রমাগত আলগা হচ্ছে সংগঠন। প্রশ্ন হচ্ছে দলের সংগঠন নিয়েই। প্রশ্নের মুখে পড়ছেন শাসক দল। দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সরব নেতারাই। তাই অনুব্রত না থাকাকালীন তৃণমূলের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পেতে চলেছেন বীরভূমের লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ। তিনি অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত।
আরও পড়ুনঃ Deganga Blast: তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতেই মজুত তাজা বোমা, বিস্ফোরণে আহত ২ রাজমিস্ত্রি
অনুব্রত জেলবন্দি হওয়ার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তৃণমূলের একাংশ। কাজল শেখের মতো নেতারা নাম না করে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। তাতেও এখন অস্বস্তিতে পড়েছে দল। এরই মধ্যে জেলের মধ্যে থেকেই দলীয় কর্মীদের বার্তা দিয়ে অনুব্রত বলে দিয়েছেন দলের মধ্যে কোনও গ্রুপবাজি চলবে না। সারা জীবনের জন্য জেলে থাকবেন না বলেও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন তিনি। তাই আপাতত দলের শৃঙ্খলারক্ষা দায়িত্ব লাভপুরের বিধায়কের ওপরেই তুলে দেওয়া হয়েছে। এই মুহুর্তে বীরভূমে জেলা তৃণমূলের পরিচালনায় রয়েছে জেলার সমন্বয় কমিটি। দলের বৈঠক ডাকছেন সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী এবং মুখপাত্র মলয় মুখ্যোপাধ্যায়।

এমনিতেই অনুব্রতর অনুপস্থিতিতে গতকাল দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তাঁর কথায়, বনের বাঘ এক দিক থেকে অন্য দিকে চলে গেলে শেয়ালরা মাঝেমাঝে লাফালাফি করে। আবার যেই বাঘ আসে তখন শেয়ালগুলি লেজ নাড়িয়ে পালিয়ে যায়। বীরভূমের বাঘকে তোমরা কিছু দিনের জন্য খাঁচায় রেখেছ। সারা জীবন পারবে না। সেই বাঘ যখন আবার বেরিয়ে আসবে তখন আজ যে শিয়ালগুলি হুক্কা হুয়া করছে তারা সকলে আবার খাঁচায় ঢুকে যাবে।
দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সরব নেতারাই, বীরভূম নিয়ে বিরাট সিদ্ধান্ত তৃণমূলের

ফিরহাদের এই মন্তব্য বীরভুমের দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করেছে ঠিকই। কিন্তু শাসক দলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও সম্পত্তির বহর দেখেই মুখ ফেরাতে শুরু করেছেন নীচুতলার কর্মীরা। এমত অবস্থায় প্রতি রবিবার নিয়ম করে বোলপুরের দলীয় কার্যালয়ে বৈঠকে বসে তৃণমূল। সেখানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বিকাশ রায় চৌধুরী, মলয় মুখ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রনাথ সিনহা ও অভিজিৎ সিংদের।



