কলকাতা হাই কোর্টেরই প্রাক্তন বিচারপতি তিনি। এবারের লোকসভায় তমলুক কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী। কয়েক মাস আগের বিচারপতিই আজ মামলাকারী! তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের আর্জি নিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন: ভোটের দিনেও অস্বস্তিতে শতাব্দী, সরকারি ভাতা পাই না বলে ক্ষোভ অশীতিপর বৃদ্ধার!


গত ৫ মে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, হামলা ও ভাঙচুর, অস্ত্র আইন-সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তমলুকে চলছে চাকরিহারাদের বিক্ষোভ। প্রাক্তন বিচারপতির বিরুদ্ধে সরব এসএসসি মামলার রায়ে চাকরিহারা শিক্ষকদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। সেই এফআইআর খারিজের আর্জি জানিয়েই উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিজিৎ।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে অভিজিতের মনোনয়ন জমা দেবার দিন। সেদিন বিজেপি কর্মী সমর্থকদের নিয়ে বিশাল মিছিল করে মনোনয়ন জমা দিতে যাচ্ছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি। তমলুক হাসপাতাল মোড়ে চাকরিহারা শিক্ষকদের অনশনমঞ্চের কাছে পৌঁছতেই গন্ডগোল শুরু হয়। গত ২৯ এপ্রিল থেকে তাঁরা সেখানে জমায়েত করছেন। চলছে অনশন। জেলার থেকেও আরও চাকরিহারারা এসে যোগদান করেছেন অনশন মঞ্চে।



এই অনশন মঞ্চের কাছে অভিজিতের মিছিল পৌঁছাতেই তাঁকে ‘চাকরিখেকো’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন মঞ্চে উপস্থিত আন্দোলনকারীরা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও অভিজিতের নামে ‘চোর-চোর’ স্লোগানও দেওয়া হয়। এখানেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন বিজেপি কর্মীরাও।
ছিলেন বিচারপতি, আজ নিজেই মামলাকারী! হাই কোর্টের দ্বারস্থ অভিজিৎ, কেন?

বিজেপির মিছিল থেকেও ওঠে স্লোগান। অভিযোগ, মিছিল থেকে জুতো, ইট ছোঁড়া হয় অনশনমঞ্চের দিকে। আর তাতেই আহত হন চাকরিহারা কয়েকজন শিক্ষক। তাঁরাই পুলিশের কাছে অভিজিতের নামে অভিযোগ জানান এবং দায়ের হয় এফআইআর।
এই মামলার কারণে তাঁর প্রচারে বেরোতে অসুবিধা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিজিৎ। সেই কারণে আজ কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসে মঙ্গলবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা।







