লোকসভায় প্রথমবার বক্তৃতা করতে গিয়েই বিতর্কে জড়ালেন তমলুকের বিজেপি সাংসদ তথা কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। অসংসদীয় শব্দের ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ কংগ্রেসের। যা নিয়ে তীব্র হইচই শুরু হয় লোকসভায়। এদিন নিজের ভাষণে বাজেটে যে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বাবদ ৭৫ হাজার টাকা ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন তা নিয়েই অধিকাংশ অথা বলেন অভিজিৎ।
আসলে, ভোটের আগে অভিজিৎ একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, মহাত্মা গান্ধী নাকি নাথুরাম গডসে কার পক্ষে থাকা উচিত তা নিয়ে তাঁর মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। গডসে কেন গান্ধীকে হত্যা করেছিলেন সেটাও ভাবার বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। আজ লোকসভায় বক্তৃতা করতে উঠলে এই প্রসঙ্গেই তমলুকের সাংসদকে খোঁচা দেন কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ। গডসে না গান্ধী কার পক্ষে অভিজিৎ তা জানতে চান তিনি। রেগেমেগে গিয়ে অভিজিৎ গগৈকে বলেন, স্টুপিড অর্থাৎ, বোকা!



এই নিয়েই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। আপত্তি জানান বিরোধীরা। তাঁরা বলেন, অসংসদীয় শব্দের ব্যবহার করেছেন অভিজিৎ। এই শব্দকে লোকসভার রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানায় কংগ্রেস। গৌরব গগৈ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন মেঘওয়ালের উদ্দেশ্যে বলেন, “অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের থেকে আমার কোনও আশা নেই। কিন্তু আপনি তো জানেন, এটা অসংসদীয় শব্দ। সংসদে এটা বলা যায় না।” স্পিকার ওম বিড়লা বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনে তা রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।
লোকসভার প্রথম বক্তৃতাতেই অসংসদীয় শব্দের ব্যবহার, সমালোচনার মুখে অভিজিৎ!
মঙ্গলবার তৃতীয় এনডিএ সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। এদিন অভিজিৎ তাঁর বক্তব্যে বাজেটের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে, কেন্দ্র সরকার স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বাবদ ৭৫ হাজার টাকা ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে তা যে সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে চলেছে সেটাই মনে করিয়ে দেন অভিজিৎ।



অন্যদিকে, বাজেটের জবাবি ভাষণে এদিন বক্তব্য রাখেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে ঝড় ওঠে লোকসভায়। স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গেও বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি। অভিষেক এদিন বাজেট শব্দটির অ্যাক্রনিম করেন। সেখানে তিনি ‘বি’-এর অর্থ বলেন, ব্রিট্রেয়াল অর্থাৎ, বিশ্বাসঘাতকতা। এই শব্দটিও অসংসদীয় বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। সব মিলিয়ে, বাজেটের ভাষণে বিতর্ক যেন বাংলার সাংসদদের পিছু ছাড়ছে না!








