রান্নাঘরের পরে এবার রাস্তাতেও বাড়ছে খরচের চাপ। জ্বালানির দাম ও ঘাটতির জেরে রাজ্যের বিভিন্ন রুটে হঠাৎ করেই ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে অটোর ভাড়া, অভিযোগ নিত্যযাত্রীদের। সরকারি অনুমোদন ছাড়াই একাধিক এলাকায় অটোচালকরা নিজেদের মতো করে ভাড়া বাড়িয়ে নিচ্ছেন বলে দাবি যাত্রীদের একাংশের। ফলে প্রতিদিনের যাতায়াতে নতুন করে আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
যাত্রীদের অভিযোগ, ইতিমধ্যেই গড়িয়া–বারুইপুর, সোনারপুর–গড়িয়া, বারুইপুর–জুলপিয়া, বারুইপুর–দক্ষিণ বারাসত-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে ভাড়া বেড়েছে। কোথাও ৫ টাকা, কোথাও আবার ১০ টাকা বা তারও বেশি বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


অনেক যাত্রী জানান, কোনও পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করেই এই ভাড়া বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে। প্রতিবাদ করলে চালকদের তরফে স্পষ্ট জবাব— জ্বালানির দাম বেড়েছে, তাই ভাড়াও বাড়াতে হয়েছে।
অটোচালকদের একাংশ অবশ্য বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, সম্প্রতি অটোর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম হু হু করে বেড়েছে, পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না।
চালকদের বক্তব্য, আগে প্রতি লিটার গ্যাসের দাম ছিল প্রায় ৭০–৭৫ টাকা, কিন্তু এখন তা বেড়ে অনেক জায়গায় ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাড়তি খরচ সামাল দিতে বাধ্য হয়েই যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।


জুলপিয়া রুটের অটোচালক আনন্দ সিংহ বলেন,
“আমরা ইচ্ছে করে ভাড়া বাড়াতে চাই না। কিন্তু গ্যাসের দাম এত বেড়েছে যে পুরনো ভাড়ায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আগে জুলপিয়া থেকে বারুইপুর ২০ টাকা ছিল, এখন ২৫ টাকা নিতে হচ্ছে।”
অন্যদিকে যাত্রীরা বলছেন, এই ভাড়া বৃদ্ধি তাঁদের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
জুলপিয়া রুটের যাত্রী সবিতা পরামাণিক জানান, আগে তিনি ১৭ টাকা ভাড়া দিতেন, এখন দিতে হচ্ছে ২৫ টাকা।

আরেক যাত্রী বলাই দাসের দাবি, জুলপিয়া–আমতলা রুটে আগে ১৫ টাকা ভাড়া ছিল, এখন সরাসরি ২৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
শুধু ভাড়া বৃদ্ধিই নয়, অনেক জায়গায় অটোর সংখ্যাও কমে গেছে। কারণ হিসেবে চালকেরা বলছেন, গ্যাস নিতে পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, ফলে অনেকেই নিয়মিত অটো চালাতে পারছেন না।
অটো ইউনিয়নের একাংশ অবশ্য জানিয়েছে, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়াকে সমর্থন করে না। তবে বাস্তবে পরিস্থিতির চাপে যাত্রীদেরই বাড়তি ভাড়া দিয়েই গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে।







