বন্যার ভয়াবহতা এখনও কাটেনি অসমে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দু’জনের মৃত্যু হওয়ায় চলতি বন্যায় রাজ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখনও সাতটি জেলার ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫০০-র বেশি মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। জলের তলায় চলে গিয়েছে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর কৃষিজমি, প্লাবিত ৪৫৬টি গ্রাম।
গত ২৪ ঘণ্টায় গোলাঘাট এবং কার্বি আংলং জেলায় বন্যার জলে ডুবে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনের পরিসংখ্যান বলছে, চরাইদেও, দারাং, গোলাঘাট, জোরহাট, কার্বি আংলং, নগাঁও এবং শিবসাগর—এই সাত জেলায় এখনও বন্যার প্রভাব রয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির নিরিখে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি গোলাঘাটে। সেখানে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। শিবসাগরে আক্রান্ত প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। জোরহাটে সংখ্যাটা প্রায় ১৬ হাজার। তবে গত শনিবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমায় কয়েকটি এলাকায় পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে বলে প্রশাসনিক কর্তারা জানিয়েছেন।
বন্যার্তদের জন্য ছয়টি জেলায় ১২৫টি ত্রাণশিবির এবং ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৯ হাজার ৬১ জন। দুর্গত মানুষের কাছে খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজও চলছে।
প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যাকবলিত এলাকায় ৭১০.৪৪ কুইন্টাল চাল, ১২৭.৮৫ কুইন্টাল ডাল, ৩৮.৩৪ কুইন্টাল লবণ এবং ৩,৭৭৩.৭ লিটার সরষের তেল বিতরণ করা হয়েছে। দুর্গতদের জন্য আরও ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে।
তবে জল নামলেও বিপর্যয়ের ছবি এখনও ভয়াবহ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অসমের ৪৫৬টি গ্রাম এখনও জলের তলায়। বন্যার জলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১১,৯৩৩.৪৬ হেক্টর কৃষিজমি। ফলে চাষাবাদ এবং কৃষকদের জীবিকাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে।
বন্যার জেরে একাধিক জেলায় পরিকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বাঁধ, রাস্তা এবং সেতুর পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ও স্থানীয় পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে জল কমার পরেও স্বাভাবিক জনজীবন ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ থাকছে।
নদীর জলস্তর নিয়েও উদ্বেগ কাটেনি। গোলাঘাট এবং নুমালিগড়ে ধানসিঁড়ি নদী এবং শ্রীভূমিতে কুশিয়ারা নদী এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। ফলে সংশ্লিষ্ট নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
শুধু মানুষের জীবন ও কৃষিজমিই নয়, ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগিরও। শেষ পাওয়া সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বন্যায় রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৪৩ হাজার ৩৩১টি গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির মৃত্যু হয়েছে।
বৃষ্টির দাপট কমায় আপাতত কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিললেও অসমের বন্যা পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। শতাধিক মানুষের প্রাণহানি, লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ, বিপুল কৃষিজমি প্লাবিত হওয়া এবং পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি মিলিয়ে এবারের বন্যা রাজ্যের সামনে বড় মানবিক ও প্রশাসনিক সংকট তৈরি করেছে।



