সূর্যের কপালে জয়ের তিলক, বোধনের রাতে পাক-বিসর্জন দিয়ে এশিয়া জয় ভারতের

বোধনের রাতে পাক-বিসর্জন, অপরাজিত থেকেই ফের এশিয়াসেরা টিম ইন্ডিয়া

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

Asia Cup 2025 Final মানেই ভারত-পাকিস্তান লড়াই। দুবাই স্টেডিয়ামে গ্যালারিতে চোখে জল, বুক ধড়ফড়ানো উত্তেজনা—এই রোমাঞ্চে ভরপুর ছিল রবিবারের রাত। টসে হেরে আগে ব্যাট করে পাকিস্তান ১৪৭ রানে অলআউট হয়ে গেলেও ভারতের জয়ের পথ একেবারেই সহজ ছিল না। শুরুতেই শুভমন গিলের ক্যাচ ধরার মুহূর্তে মনে হয়েছিল, হয়তো এবার ইতিহাস রচনায় ব্যর্থ হবে সূর্যেরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত Tilak Varma-র ব্যাট ভারতকে এনে দিল কাঙ্খিত জয়।

এই জয়ের সঙ্গে যোগ হল আরও একটি মাইলস্টোন। টানা তিন রবিবার পাকিস্তানকে হারিয়ে India vs Pakistan Hat-trick Win-এর কৃতিত্ব গড়ল সূর্যের ভারত। আর সেই সঙ্গে মাথায় উঠল এশিয়া কাপের মুকুট।

সূর্যের কপালে জয়ের তিলক, বোধনের রাতে পাক-বিসর্জন দিয়ে এশিয়া জয় ভারতের

সূর্যের কপালে জয়ের তিলক, বোধনের রাতে পাক-বিসর্জন দিয়ে এশিয়া জয় ভারতের
সূর্যের কপালে জয়ের তিলক, বোধনের রাতে পাক-বিসর্জন দিয়ে এশিয়া জয় ভারতের

পাকিস্তানের ওপেনারদের দাপট

শুরুতেই ভারতের বোলারদের উপর চাপ সৃষ্টি করেছিল পাকিস্তান। ফখর জ়মান আর সাহিবজ়াদা ফারহানের ব্যাটে ঝড় উঠেছিল। মাত্র ৯ ওভারে বিনা উইকেটে ৭৭ রান তুলে নেয় তারা। ফারহানের খেলা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ধারাবাহিকতার ছাপ রেখে তিনি ভবিষ্যতে পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডারের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠতে পারেন। তখনই মনে হচ্ছিল, পাকিস্তান হয়তো ২০০ রানের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। ভারতীয় সমর্থকদের বুক কাঁপছিল এই দাপট দেখে।

বুমরাহর ছন্দহীনতা, হার্দিকের অভাব

ভারতীয় শিবিরে সবচেয়ে বড় চিন্তার নাম ছিল Jasprit Bumrah। এক সময় পাকিস্তানের কাছে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠা এই পেসার গত কয়েক ম্যাচ ধরেই ছন্দহীন। হার্দিক পাণ্ড্যের অনুপস্থিতি আরও বেশি করে বোঝা যাচ্ছিল। চাপের সময়ে রান আটকানো কিংবা বুদ্ধিদীপ্ত বল করার মতো অস্ত্র ভারতের হাতে ছিল না। শিবম দুবে যতই চেষ্টা করুন, হার্দিকের বিকল্প হয়ে উঠতে পারেননি। ফলত, ওপেনারদের বিরুদ্ধে অসহায় দেখাচ্ছিল ভারতের বোলিং লাইন-আপকে।

হঠাৎ ধস পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে

কিন্তু ক্রিকেটে সবকিছুই অনিশ্চিত। ফারহান ফিরতেই ভেঙে পড়ল পাকিস্তানের ব্যাটিং। ১১৩/১ থেকে মুহূর্তে ১৪৬ অলআউট হয়ে গেল তারা। সাইম আয়ুব, হ্যারিস রউফ, এমনকি ফখর জ়মানও একে একে ফিরলেন। সাত ওভারের মধ্যে ৯ উইকেট হারাল পাকিস্তান।

দুবাই স্টেডিয়ামের সবুজ জার্সিধারী সমর্থকরা হতাশায় মাথায় হাত দিয়ে বসে রইলেন। যা শুরু হয়েছিল ধুমধাড়াক্কা দিয়ে, শেষ হল ব্যাটিং ধস দিয়ে।

ভারতের কৌশলের বদল

পাকিস্তানের শুরুটা দেখে ভারতের স্পিনাররা দ্রুত পরিকল্পনা পাল্টান। শুরুতে তারা ৯০ কিমি গতিতে বল করছিলেন। কিন্তু পরে গতি কমিয়ে দেন। এই পরিবর্তনই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়। Kuldeep Yadav আর বরুণ চক্রবর্তীর বুদ্ধিদীপ্ত স্পিনে পাকিস্তানের ব্যাটিং ভেঙে পড়ে।

স্পিনাররা ১৩ ওভারে ৮ উইকেট তুলে নিলেন। পাকিস্তানের বেশিরভাগ ব্যাটার ভুল শট খেলতে গিয়ে ধরা পড়লেন।

ভারতের জয়ের নায়ক তিলক বর্মা

জয়ের মূল চাবিকাঠি অবশ্যই ছিল ব্যাটিং। শুভমন গিলের ক্যাচ ধরে ফেলায় ভারত এক সময় সমস্যায় পড়েছিল। কিন্তু সেই চাপ থেকে দলকে উদ্ধার করলেন Tilak Varma। ৫০ রানের অমূল্য ইনিংস খেলে তিনি ভারতকে জয়ের তীরে পৌঁছে দেন। শিবম দুবের সঙ্গে জুটি গড়ে ভারতকে জয়ের পথে নিয়ে যান তিলক। দুবে আউট হন ২২ বলে অমূল্য ৩৩ রানের ইনিংস খেলে।

তিলকের এই ইনিংস না থাকলে হয়তো এশিয়া কাপের ট্রফি ভারতীয় শিবিরে আসত না। ম্যাচ শেষে তাঁর ব্যাটের দিকেই তাকিয়ে ছিল গোটা দেশ। ১৯.৪ ওভারে জয়ী ভারত। ৫৩ বলে ৬৯ রানে অপরাজিত থাকলেন তিলক বর্মা। এশিয়া কাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে চার মেরে ভারতকে জেতালেন রিঙ্কু সিং।

এশিয়া কাপ জয়: ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক

এই জয়ের মাধ্যমে ভারত শুধু এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়নই হয়নি, বরং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টানা তিন রবিবার জয়ের Hat-trick Record গড়ল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই অগ্নিপরীক্ষা। সেই অগ্নিপরীক্ষায় সূর্যেরা প্রমাণ করলেন, চাপের মুহূর্তে তারাই আসল চ্যাম্পিয়ন। এই জয় ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত